AdvertisementAdvertisement

ফিলিস্তিনি অধিকার বিশেষজ্ঞ ফ্রান্সেস্কা আলবানিজকে পুনরায় নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করল যুক্তরাষ্ট্র

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ফ্রান্সেসকা আলবানিজকে আবারও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফরেন অ্যাসেট কন্ট্রোল দপ্তরের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত একটি হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আলবানিজের ওপর আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধের বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করল ওয়াশিংটন।

জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টার হিসেবে দায়িত্বরত আলবানিজ ইসরায়েলি নীতির ঘোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। গত বছরের জুলাই মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও আলবানিজের বিরুদ্ধে ‘বিদ্বেষপূর্ণ ও পক্ষপাতমূলক’ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগ এনে প্রথমবারের মতো এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সুপারিশ করায় ট্রাম্প প্রশাসন তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নিষেধাজ্ঞার ফলে আলবানিজের মার্কিন সম্পদ জব্দ হওয়ার পাশাপাশি তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যায় এবং কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়। ইতালীয় নাগরিক আলবানিজের মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ায় এবং তাদের পারিবারিক বাসস্থান দেশটিতে থাকায় এই নিষেধাজ্ঞা তার ব্যক্তিগত জীবনে গভীর সংকটের সৃষ্টি করে। এ নিয়ে দায়ের করা এক মামলায় গত মে মাসে মার্কিন জেলা জজ রিচার্ড লিওন নিষেধাজ্ঞার ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিচারপতি লিওন তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছিলেন যে, আলবানিজের বক্তব্য তার সাংবিধানিক বাকস্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সিদ্ধান্তে তার সুপারিশের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আদালতের সেই রায়ের পর আলবানিজকে তালিকা থেকে সাময়িকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং বুধবার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই তাকে আবারও ‘স্পেশাললি ডেজিগনেটেড ন্যাশনাল’ তালিকায় যুক্ত করল।

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন কেবল আলবানিজই নয়, বরং ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তে যুক্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের অন্তত নয়জন বিচারক ও কৌঁসুলির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ করতেই ওয়াশিংটন এ ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে। গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ৭৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারানোর পর থেকেই বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%