জার্মানিকে কাঁদিয়ে শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়ের রূপকথার জয়

বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বে এক অবিশ্বাস্য অঘটনের সাক্ষী থাকল ফুটবল বিশ্ব। ম্যাসাচুসেটসের ফক্সবরোতে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের পর চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে প্যারাগুয়ে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ গোলে ড্র থাকার পর পেনাল্টি শুটআউটে গোলরক্ষক অরলান্দো গিলের অসাধারণ নৈপুণ্যে জার্মানিকে বিদায় করে ইতিহাস গড়েছেন গুস্তাভো আলফারোর শিষ্যরা।

ম্যাচের প্রথমার্ধেই হুলিও এনসিসোর গোলে লিড নিয়ে চমক দেখিয়েছিল প্যারাগুয়ে। তবে কাই হাভার্টজের গোলে সমতায় ফেরে জার্মানি। অতিরিক্ত সময়ে জোনাথান তাহের একটি গোল বাতিল হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। এর আগে কখনও বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে হারেনি জার্মানি। তবে সেই রেকর্ড ভেঙে প্যারাগুয়ে প্রথমার্ধের দাপট ধরে রেখে জয় ছিনিয়ে নেয়। যদিও আন্তোনিও সানাব্রিয়া ও ফাবিয়ান বালবুয়েনা সুযোগ হাতছাড়া করায় নাটকীয়তা ছিল চরমে। শেষ পর্যন্ত ষষ্ঠ শটে গিয়ে নিষ্পত্তি হয় লড়াইয়ের।

ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের কোচ গুস্তাভো আলফারো তার শিষ্যদের পারফরম্যান্সকে 'অসাধারণ' বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, ফেভারিট জার্মানির বিপক্ষে মাঠে নামাটা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তীব্র গরম আর শারীরিক ধকল সত্ত্বেও খেলোয়াড়রা নিখুঁতভাবে গেম প্ল্যান বাস্তবায়ন করেছেন। তিনি বলেন, এই জয় প্যারাগুয়ের সেই সব সমর্থকদের জন্য, যারা সবসময় দলের ওপর বিশ্বাস রেখেছেন।

প্যারাগুয়ের ইতিহাসে এটি নকআউট পর্বে মাত্র দ্বিতীয় জয়। বিশ্বকাপের পরবর্তী রাউন্ডে এখন তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে ফ্রান্স অথবা সুইডেন। ফরাসিদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দলের তরুণ তারকা হুলিও এনসিসো জানান, বিশ্বমানের খেলোয়াড়ে ঠাসা ফ্রান্সের বিপক্ষে লড়াই করার জন্য তারা প্রস্তুত। কোনো দলকে ভয় না পাওয়ার মানসিকতাই তাদের শক্তির মূল উৎস বলে মনে করছেন তিনি।

২০১০ সালের বিশ্বকাপের পর প্যারাগুয়ের কাছে এটি সেরা সুযোগ নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার। সেই আসরে তারা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। বর্তমান ছন্দে থাকা এনসিসো ও তার সতীর্থরা মনে করেন, তাদের দলীয় সংহতি এবং অদম্য মানসিকতা যেকোনো প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার জন্য যথেষ্ট। জার্মানি বধের এই জয় প্যারাগুয়ের ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করল।

০%
০%
০%
০%