তুরস্কের কাছে হারের পর ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে বসনিয়ার মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র

ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এখন দূরতম স্বপ্ন মনে হতে পারে, তবে সান্তা ক্লারায় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে আসন্ন রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচটি নিজেদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বড় মঞ্চ। ইনগলউডের মাঠে তুরস্কের কাছে ৩-২ গোলে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা দলটিকে নতুন করে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে। তবে ডিফেন্ডার মার্ক ম্যাকেঞ্জি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পরের রাউন্ড মানেই নতুন শুরু এবং শিরোপা জয়ের সংকল্প থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হয়নি তার দল।

সুইডিশ ফুটবল কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ সম্প্রতি এক টেলিভিশন সম্প্রচারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ স্বপ্ন নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করে ভক্তদের বিশ্বাস রাখতে বলেছিলেন। অথচ মাত্র এক বছর আগেও চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেই সময়ে টানা চার ম্যাচে হারের বৃত্তে বন্দি ছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু মাউরিসিও পচেত্তিনোর কোচিংয়ে দৃশ্যপট এখন বদলেছে। প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ে ১৯৩০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়েছে দলটি।

পচেত্তিনোর কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। চার-দুই-তিন-এক ফরমেশনের বদলে এখন তিন ডিফেন্ডারের রক্ষণভাগে আস্থা রাখছেন তিনি। অ্যালেক্স ফ্রিম্যান ও অ্যান্টোনি রবিনসন উইং দিয়ে আক্রমণের রসদ জোগাচ্ছেন। সেই সাথে ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ ও সের্জিনো দেস্তের আক্রমণভাগ প্রতিপক্ষের জন্য বাড়তি মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঠে হাই-প্রেসিং ফুটবল বা উচ্চ-চাপ প্রয়োগের কৌশলেই এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের শক্তির জানান দিচ্ছে, যা অনেকটা প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের প্রাক্তন রণকৌশলের ছায়া অবলম্বনে তৈরি।

তবে অতি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই রক্ষণভাগে ফাটল ধরছে। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে আরদা গুলারের কাছে পুলিসিচের পরাস্ত হওয়া এবং শেষ মুহূর্তে কান আয়হানের জয়সূচক গোলটি সেই দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ। সত্তরের হাজারেরও বেশি দর্শকের উপস্থিতিতে সেই হার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৫০ সালের পর থেকে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জয় মাত্র একটি। এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জন্য অ্যাসিড টেস্ট। ২০০২ বিশ্বকাপে পর্তুগালকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সেই স্মৃতি থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারে বর্তমান দল। তবে কিংবদন্তি গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ডের মতে, টানা চারটি ম্যাচ বিশ্বমানের খেলা উপহার দিয়ে শিরোপা জেতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কার্যত অসম্ভব।

এখনও ঘরের মাঠের দর্শকদের জোরালো সমর্থন দলটিকে বাড়তি শক্তি জোগাচ্ছে ঠিকই, তবে কেবল অদম্য স্পৃহা আর হাই-প্রেসিং ফুটবলের ওপর ভর করে বড় শিরোপা জয় সম্ভব নয়। এজন্য ধৈর্য ও কৌশলে বৈচিত্র্য আনা জরুরি। রাউন্ড অব ৩২-এর লড়াইয়ে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে নিজেদের প্রমাণ করার মাধ্যমে পচেত্তিনোর শিষ্যরা যদি ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তবেই তাদের স্বপ্নের সীমানা আরও বিস্তৃত হবে।

০%
০%
০%
০%