বিশ্বকাপে হোঁচট খেল পর্তুগাল লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে যখন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হলান্ড এবং হ্যারি কেইনরা নিজেদের জাত চেনালেন, তখন পর্তুগালের হয়ে মাঠে নেমে একরাশ হতাশা সঙ্গী হলো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। গ্রুপ 'কে'-এর ম্যাচে ডি আর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগাল ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে বাধ্য হয়েছে। ম্যাচ শেষে হতাশায় ডুবলেও রোনালদো দৃঢ় কণ্ঠে উচ্চারণ করেছেন, "এখানেই সব শেষ হয়ে যায়নি।" তার এই মন্তব্য পর্তুগালের নকআউট পর্বে যাওয়ার লড়াইকে যেমন ইঙ্গিত করে, তেমনি অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগিয়েছে তার বর্ণিল ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

হিউস্টনের মাঠে ৪১ বছর বয়সী রোনালদো এদিন অনন্য এক ইতিহাসের অংশ হয়েছেন। বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকা সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন তিনি। তবে তার এই মাইলফলক স্পর্শের দিনে খেলার মাঠে ছিল না চিরচেনা ধার। লিওনেল মেসির আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে রেকর্ডের ডালি সাজানোর ঠিক একদিন পরই রোনালদো মাঠে নেমেছিলেন নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে। কিন্তু ডি আর কঙ্গোর জমাট রক্ষণভাগের সামনে তিনি যেন ছিলেন অনেকটা নিষ্প্রভ।

ম্যাচে রোনালদো বল স্পর্শ করেছেন মাত্র ২৫ বার, যা পর্তুগালের শুরুর একাদশের যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে কম। এমনকি ৭২ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা রাফায়েল লিয়াও ১৪ বার বল স্পর্শ করার সুযোগ পেয়েছেন। পরিসংখ্যান বলছে, তার ২২টি পাস চেষ্টার মধ্যে ১৭টিই ছিল ব্যাকপাস। গোলমুখে তিনটি শট নিলেও তার একটিও লক্ষ্যে ছিল না, যা স্পষ্টতই তার ফর্মহীনতার প্রমাণ দিচ্ছে। ইউরো ২০২৪ সহ বড় কোনো টুর্নামেন্টে গত ১০ ম্যাচে কোনো গোল পাননি এই মহাতারকা।

পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ অবশ্য ম্যাচ শেষে রোনালদোর পক্ষেই দাঁড়িয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, রোনালদোর মতো গোলস্কোরারের ওপর আস্থা রাখাটা জরুরি। তবে মাঠে তার পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। বিশেষ করে দ্বিতীয় অর্ধে ব্রুনো ফার্নান্দেজের একটি নিশ্চিত পাসের পথে রোনালদোর অবস্থান নেওয়া এবং গোল করতে ব্যর্থ হওয়া নিয়ে সমালোচনা করেছেন থিয়েরি অঁরি। অঁরির মতে, রোনালদোর ব্যক্তিগত গোলের আকাঙ্ক্ষা অনেক সময় দলের গোছানো আক্রমণে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সাবেক ঘানা মিডফিল্ডার কেভিন প্রিন্স বোয়াটেং আরও এক ধাপ এগিয়ে মন্তব্য করেছেন, রোনালদো যদি প্রকৃত অর্থে দলের কথা ভাবতেন, তবে তরুণদের সুযোগ দিয়ে নিজেকে কিছুটা সরিয়ে নিতেন। পর্তুগাল তাকে ছাড়াই এখন অনেক বেশি শক্তিশালী দল বলে মনে করছেন বোয়াটেং। এখন দেখার বিষয়, উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়ার বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে রোনালদো কি পারেন তার সমালোচকদের মুখে কুলুপ এঁটে ষষ্ঠ বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়তে, নাকি তার ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বিকেলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল করার অপূর্ণ আক্ষেপ রয়েই যাবে।

০%
০%
০%
০%