বিশ্বকাপের অষ্টম দিনে আজ ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে জয় পাওয়া এই দুই দল নকআউট পর্বের আশা বাঁচিয়ে রাখতে আজ মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে মেক্সিকোর পাল্লাই ভারী, বিশেষ করে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে কোরিয়ার বিপক্ষে তাদের ২-১ গোলের জয়টি আজও ফুটবল দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। অপটা সুপার কম্পিউটারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মেক্সিকোর জয়ের সম্ভাবনা ৪৯ দশমিক ১ শতাংশ, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য এই হার ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
অন্যান্য ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্র লড়ছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। দক্ষিণ আফ্রিকার ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অতীতের রেকর্ড বেশ উজ্জ্বল, বিশেষ করে ২০১০ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে তাদের ঐতিহাসিক ২-১ গোলের জয়টি এখনো আলোচিত। অন্যদিকে, চেক প্রজাতন্ত্রের জয়ের সম্ভাবনা ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ বলে জানিয়েছে অপটা। একই দিনে সুইজারল্যান্ড ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মধ্যকার লড়াইটিও বেশ আকর্ষণীয় হতে যাচ্ছে। যদিও ২০১৬ সালের এক প্রীতি ম্যাচে বসনিয়া ২-০ গোলে হারিয়েছিল সুইসদের, তবে এবার ৬১ দশমিক ৬ শতাংশ জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে সুইজারল্যান্ডই সুস্পষ্ট ফেভারিট। স্বাগতিক কানাডা ও কাতারের ম্যাচেও কানাডার জয়ের সম্ভাবনা ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ, যা স্টেডিয়ামের দর্শকদের একতরফা উত্তেজনার আভাস দিচ্ছে।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই গোলের লড়াই বেশ জমে উঠেছে। আর্জেন্টিনার হয়ে হ্যাটট্রিক করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন লিওনেল মেসি। অন্যদিকে, নতুন ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে ও ডিআর কঙ্গো। পর্তুগালের বিপক্ষে ডিআর কঙ্গোর ১-১ ড্রয়ের ম্যাচে ইয়োয়ান উইসা দলের হয়ে বিশ্বকাপের প্রথম গোলটি করে রীতিমতো রূপকথা তৈরি করেছেন। কলম্বিয়া তাদের প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে দারুণ সূচনা করেছে, যেখানে লুইস দিয়াজ ও দানিয়েল মুনোজের নৈপুণ্য ছিল দেখার মতো। এছাড়া কেপ ভার্দের মতো নবাগত দল স্পেনের মতো শক্তিধর দলকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেওয়া এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফুটবল অঙ্গনে এখন নানামুখী আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী 'হাইড্রেশন ব্রেক' বা পানিবিরতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই বিরতি ম্যাচের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করছে, যদিও ফিফা একে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি বলে দাবি করছে। এছাড়া বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর বৈচিত্র্যময় গঠন নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও স্পেনের মতো দলে বিভিন্ন ধর্মের খেলোয়াড়দের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলার দৃশ্য বিশ্বজুড়ে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
আফ্রিকান দলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়েও এবারের বিশ্বকাপে বেশ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রেকর্ড ছয়টি সাব-সাহারান আফ্রিকান দেশ এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে, যা মহাদেশীয় ফুটবলের জন্য এক নতুন দিগন্ত। ডিআর কঙ্গো ও কেপ ভার্দের মতো দেশগুলোর চমকপ্রদ পারফরম্যান্স প্রমাণ করছে যে, বিশ্বমঞ্চে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ভিসা জটিলতা বা ভুভুজেলার ওপর নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয়গুলো আলোচনার বাইরে থাকেনি। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে এবং প্রতিটি ম্যাচই নতুন নতুন রেকর্ডের জন্ম দিচ্ছে।