প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি ও কঠোর নিরাপত্তায় অবরুদ্ধ ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন নিউইয়র্ক নিটসের ফাইনাল জয়ের অপেক্ষায়

এনবিএ ফাইনালসের তৃতীয় ম্যাচে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে আজ এক ঐতিহাসিক আবহ বিরাজ করছে। সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা নিউ ইয়র্ক নিকস যখন সান আন্তোনিও স্পার্সের বিপক্ষে ঘরের মাঠে নামছে, তখন পুরো ম্যানহাটনে ছড়িয়ে পড়েছে বাড়তি উত্তেজনা। তবে এই উত্তেজনার মাঝেও নিরাপত্তা বলয়ের কড়াকড়িতে জনজীবন অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে, কারণ ম্যাচটি উপভোগ করতে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে স্পার্সের ফরাসি তারকা ভিক্টর ওয়ামবানিয়ামাকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে নিউ ইয়র্ক নিকস। ১৯৭৩ সালের পর প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখা নিকস ভক্তরা মাঠের বাইরে উৎসব করতে চাইলেও, প্রেসিডেন্টের সফর ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পড়েছে পুরো এলাকা। নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে এই ম্যাচে মাঠের বাইরে কোনো ধরনের 'ওয়াচ পার্টি'র অনুমতি দেওয়া হয়নি।

সিক্রেট সার্ভিসের প্রধান অ্যান্টনি গুগলিএলমি জানিয়েছেন, ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের আশপাশের রাস্তায় কঠোরভাবে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। দর্শকদের জন্য কোনো ব্যাগ বহন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বিমানবন্দরে যেমন কঠোর তল্লাশি হয়, ঠিক তেমনই নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হয়ে দর্শকদের মাঠে প্রবেশ করতে হবে। নিরাপত্তার সুবিধার্থে দর্শকদের খেলা শুরুর অন্তত দুই ঘণ্টা আগেই মাঠে পৌঁছানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এই ঐতিহাসিক লড়াই দেখতে দর্শকদের আগ্রহের পারদ তুঙ্গে। স্টাবহাবের মতো প্ল্যাটফর্মে টিকিটের দাম ৯ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা আকাশচুম্বী চাহিদার ইঙ্গিত দেয়। এর আগে শুক্রবার রাতে ১০৫-১০৪ স্কোরের শ্বাসরুদ্ধকর জয় পাওয়ার পর বাইরে সমবেত ভক্তদের মধ্যে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটায় প্রশাসন এবার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। মেয়র জোহরান মামদানি ভক্তদের দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্বকাপের আসর শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে এনবিএ ফাইনালসের এই মহারণ ক্রীড়ামোদী নিউ ইয়র্কবাসীকে এক ভিন্ন মাত্রার শিহরণ উপহার দিচ্ছে। সিরিজটি এখন ২-০ ব্যবধানে নিকসের দখলে থাকায়, সোমবারের জয়টি তাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে এক বিশাল মাইলফলক হয়ে দাঁড়াতে পারে। সব শঙ্কা ও কঠোর নিরাপত্তা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ধ্বনি কাদের কণ্ঠে ওঠে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

০%
০%
০%
০%