ফিফা ও উয়েফার দ্বন্দ্বের মাঝেও সময়মতো অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ আয়োজনে অবিচল পোল্যান্ড

ফিফা ও উয়েফার মধ্যকার চলমান জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও পোল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রস্তুতি নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী এগিয়ে চলেছে। আগামী ৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্টটি এমন এক সময়ে আয়োজিত হতে যাচ্ছে, যখন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে বৈশ্বিক পর্যায়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ইনফান্তিনোর সঙ্গে সৃষ্ট বিবাদের জেরে উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ ফিফার ইভেন্ট বয়কটের পক্ষে সর্বসম্মত ভোট দিয়েছে, যা ফুটবলের প্রশাসনিক অঙ্গনে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
পোলিশ ফুটবল ফেডারেশন মঙ্গলবার রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ফেডারেশনের ভাষ্যমতে, অংশগ্রহণকারী কোনো দলের পক্ষ থেকে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য তাদের কাছে আসেনি। তরুণ খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জনে পোল্যান্ড একটি মানসম্মত ও সফল আয়োজন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। পোলিশ কর্তারা আশাবাদী যে, বর্তমান জটিল পরিস্থিতি দ্রুতই নিরসন হবে।
টুর্নামেন্টের ২৪টি দলের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় ফ্রান্স প্রথম দেশ হিসেবে সাড়া দিয়েছিল। তাদের ধারাবাহিকতায় নিউজিল্যান্ডও নিশ্চিত করেছে যে, তারা এই টুর্নামেন্টে তাদের দল পাঠাবে। নিউজিল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, নারী ফুটবলের উন্নয়নের জন্য এই টুর্নামেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও টুর্নামেন্টে অংশ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে মার্কিন সকার ফেডারেশন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও কানাডা সকারও বর্তমানে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে।
তবে উয়েফা তাদের বয়কটের হুমকি থেকে সরে আসেনি। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ফিফার সঙ্গে তাদের শর্তগুলো পূরণ করা হয়নি এবং জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর তাদের আস্থা নেই। এই বিরোধ যদি আরও ঘনীভূত হয়, তবে নারী ফুটবলই হবে প্রথম খাত যা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে মরক্কোতে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপ এবং ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ম্যাচগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এখন পর্যন্ত বিকল্প টুর্নামেন্ট নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি এবং আশা করা হচ্ছে পরিস্থিতির তেমন অবনতি হবে না।
