মেসির অবসরের সিদ্ধান্ত একান্তই তার নিজস্ব, জানালেন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান তাপিয়া

আর্জেন্টিনা ফুটবলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জনের শেষ নেই। তবে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও ‘চিকি’ তাপিয়া স্পষ্ট জানিয়েছেন, অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক অধিকার কেবল মেসিই রাখেন। মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে যিনি বারবার সব বিতর্ক পেছনে ফেলেছেন, সেই মহাতারকাকে নিয়ে তাড়াহুড়োর কোনো অবকাশ নেই বলেই মনে করেন তাপিয়া।
চলতি বছরের ২৪ জুন ৩৯ বছরে পা দেওয়া মেসি এই গ্রীষ্মের বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে ছিলেন। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলসহ পুরো টুর্নামেন্টে ৮টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। এর আগে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করার পর ২০২৬ সালের আসর নিয়েও সংশয় ছিল। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে মেসির পারফরম্যান্স দেখে তাপিয়া মুগ্ধ। তার মতে, মেসি যে উচ্চতায় খেলছেন, তাতে তাকে চাপমুক্ত রেখে ফুটবল উপভোগ করতে দেওয়াই এখন মূখ্য।
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জয় করে। তবে ব্যক্তিগত অর্জনে মেসি ছিলেন অনন্য। তিনি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের ইতিহাসের নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন। যদিও শেষ পর্যন্ত ২২ গোল নিয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে সবার উপরে ছিলেন। তাপিয়ার ভাষায়, মেসিই ছিলেন ওই টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়, যিনি ম্যাচ থেকে ম্যাচে একের পর এক রেকর্ড ভেঙেছেন।
ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টগুলোতে মেসির অংশগ্রহণ নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে। ২০৩০ সালে যখন স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোতে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে, তখন মেসির বয়স হবে ৪৩ বছর। তবে রেকর্ড বইয়ের পাতায় রজার মিলার ৪২ বছর বয়সে বিশ্বকাপ খেলার নজির থাকলেও মেসির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি একান্তই ব্যক্তিগত। ইন্টার মায়ামির এই তারকা কবে বুট জোড়া তুলে রাখবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত দেননি।
আগামী ২১ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনা মাঠে নামবে। তবে এখনো প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হয়নি। এই ম্যাচগুলোকে ঘিরে মেসিকে নিয়ে আবারও অবসরের গুঞ্জন চাউর হয়েছে। একদিকে যেমন ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকায় শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ সামনে, অন্যদিকে প্রতি মুহূর্তের ফুটবল উপভোগ করতে চান মেসি। আপাতত বিশ্ব ফুটবলের এই কিংবদন্তিকে সময়ের হাতেই ছেড়ে দিতে চান আর্জেন্টিনা ফুটবলের নীতি নির্ধারকরা।
