সীতাকুণ্ডে নজরুল স্কয়ারের ভাস্কর্যে অযত্নের ছাপ রক্ষণাবেক্ষণের দাবি স্থানীয়দের

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত পরিবেশে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ‘নজরুল স্কয়ার’ অবহেলা ও অযত্নে তার ঔজ্জ্বল্য হারাচ্ছে। পাহাড় ও ঝরনার সান্নিধ্যে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক ভিড় করলেও কবির ভাস্কর্যটির বর্তমান জরাজীর্ণ দশা সচেতন মহলের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা শ্যাওলা ও ময়লার আস্তরণে ঢেকে গেছে ভাস্কর্যটি, যা কবির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকলেও এই স্মৃতিচিহ্নটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার অভাব প্রকট। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দর্শনার্থী আক্ষেপ করে বলেন, জাতীয় কবির স্মৃতির প্রতি এমন অবহেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই ভাস্কর্যের নান্দনিকতা নষ্ট হচ্ছে এবং এর ঐতিহাসিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, নজরুল স্কয়ার এলাকাটি সংরক্ষণের জন্য নিয়মিত নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার পর্যটক ভিড় করেন। ভাস্কর্যের গায়ে জমে থাকা শ্যাওলা ও ময়লার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম হাতে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কবির স্মৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলাকাটি ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনাও তাদের রয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে কেবল ভাস্কর্য পরিষ্কার করলেই হবে না, বরং নজরুল স্কয়ারের মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, স্কয়ারে একটি স্থায়ী তথ্যপ্যানেল স্থাপন করা প্রয়োজন, যেখানে জাতীয় কবির জীবনী, সীতাকুণ্ডের সঙ্গে তাঁর ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং কবির সাহিত্যকর্মের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে পর্যটকরা স্থানটির গুরুত্ব সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে পারবেন এবং এই সাংস্কৃতিক স্মারকটি তার প্রকৃত মর্যাদা ফিরে পাবে।
