ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার বিধিতে কোণঠাসা হরপ্রীত ব্রার অপেক্ষায় বড় পরিবর্তনের সুযোগের

পাঞ্জাব কিংসের জার্সিতে সাতটি দীর্ঘ মৌসুম অতিবাহিত করেছেন হারপ্রীত ব্রার। এই দীর্ঘ সময়ে দলের রদবদল, সাতজন অধিনায়কের পরিবর্তন এবং শিরোপার খোঁজে থাকা পাঞ্জাব শিবিরে তিনি বরাবরই এক নির্ভরযোগ্য নাম। ২০১৯ সালে অভিষেকের পর থেকে পাঞ্জাবের স্পিনারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি এই বাঁহাতি বোলার। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মের বেড়াজালে বর্তমানে মাঠের চেয়ে ডাগআউটে সময় বেশি কাটলেও, নিজের দক্ষতা ও ধারাবাহিকতায় তিনি আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে দুই বছর আগের সেই স্মরণীয় পারফরম্যান্স এখনও ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে অম্লান। টানা দুই বলে বিরাট কোহলি ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে সাজঘরে পাঠানোর পর এবি ডি ভিলিয়ার্সকে আউট করে তিনি ম্যাচটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলেন। তার শিকারের তালিকায় রোহিত শর্মা থেকে শুরু করে বৈভব সূর্যবংশীর মতো বড় নাম থাকলেও, কোহলিকে আউট করাকেই তিনি ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন বলে মনে করেন। তবে শুভমান গিলকে এখনও আইপিএলে আউট করতে না পারার আক্ষেপ তার কণ্ঠে স্পষ্ট।
ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মটি ব্রারের জন্য আশীর্বাদের চেয়ে ভোগান্তিই বেশি বয়ে এনেছে। আগে সাত নম্বরে ব্যাট করার সুযোগ পেলেও, বর্তমান নিয়মে তার ব্যাটিংয়ের সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। পিচ ও কন্ডিশন অনুযায়ী দল সাজাতে গিয়ে তিনি নিয়মিত একাদশে জায়গা হারাচ্ছেন। ২০২৬ আইপিএলে এপ্রিল ও মে মাসে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। প্রথম ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে চার ওভারে ২৫ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকলেও, বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে দুই উইকেট তুলে নিয়েছিলেন তিনি। এমন পারফরম্যান্সের পরেও পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলতে না পারার যন্ত্রণা তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়।
ব্রার বিশ্বাস করেন, ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম বাতিল হলে অলরাউন্ডার হিসেবে তার গুরুত্ব পুনরায় ফিরবে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে ২০২৩ সাল থেকে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হওয়ার পাশাপাশি প্রথমবার রঞ্জি ট্রফিতে খেলে নিজের জাত চিনিয়েছেন এই স্পিনার। গত মৌসুমে রঞ্জি ট্রফিতে পাঞ্জাবের হয়ে ২১.২৬ গড়ে ২৩ উইকেট শিকার করে তিনি প্রমাণ করেছেন, সাদা পোশাকের ক্রিকেটেও তিনি সমান কার্যকর। কেএল রাহুলের মতো ব্যাটারকে বোল্ড করে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ও কোচ রিকি পন্টিংয়ের মতো প্রজ্ঞাবান মানুষের সান্নিধ্যে নিজের সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন ব্রার। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে টেস্ট ক্রিকেট খেলার প্রবল ইচ্ছা নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। শৈশবের নায়ক যুবরাজ সিংয়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত ব্রার এখন কেবল ক্রিকেটে পূর্ণ মনোযোগ দিতে চান। পরিস্থিতির ফেরে পড়ে আইপিএলে পর্যাপ্ত সুযোগ না পেলেও, নিজের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের ওপর ভর করে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে প্রস্তুত এই অলরাউন্ডার।
