নির্বাচন নিয়ে ওড়িশা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বিসিসিআইয়ের আইনি লড়াই তুঙ্গে

লোধা কমিটির সুপারিশমালা, জাতীয় ক্রীড়া শাসন আইন এবং ক্রিকেট প্রশাসন কি সরকারি নাকি বেসরকারি কার্যক্রম—এই মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ও ওড়িশা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (ওসিএ) মধ্যে দ্বন্দ্ব চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। এই বিরোধের সূত্রপাত মূলত ওড়িশা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনকে ঘিরে, যা বর্তমানে গড়িয়েছে রাজ্য হাইকোর্ট পর্যন্ত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওড়িশা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন অবিলম্বে আয়োজন করার জন্য কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিসিসিআই। বোর্ডের আইনি বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মেলিন্ডা কোলাকো হাইকোর্টে হলফনামা দাখিল করে স্পষ্ট জানিয়েছেন, অবিলম্বে নির্বাচন না হলে ওসিএ’র তহবিল বন্ধ করাসহ সদস্যপদ বাতিলের ঝুঁকি রয়েছে। বিসিসিআইয়ের যুক্তি, কোনো কর্মকর্তা টানা দুই বছরের বেশি পদে থাকতে পারেন না এবং তাদের অবশ্যই সুপ্রিম কোর্টের রায় ও নিজেদের উপবিধি মেনে চলতে হবে। ওড়িশা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সভাপতি পঙ্কজ মহান্তি, সম্পাদক সঞ্জয় বেহেরা এবং কোষাধ্যক্ষ বিকাশ প্রধান ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে নিজ নিজ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।
নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে প্রাক্তন ক্রিকেটার ও কোচ ললিতেন্দু বিদ্যাপীঠ মহাপাত্র আদালতে আবেদন করলে বিসিসিআই এই আইনি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়। বিসিসিআইয়ের দাবি, লোধা কমিটির বিধিনিষেধ না মানলে ওড়িশা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অনুদান পাওয়ার যোগ্য হবে না এবং দুই বছর পর্যন্ত এমনটি চললে বোর্ড তাদের স্বীকৃতি কেড়ে নিতে পারে।
অন্যদিকে, ওসিএ’র ভাষ্য ভিন্ন। সম্পাদক সঞ্জয় বেহেরা আদালতের কাছে দাবি করেছেন, ২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জাতীয় ক্রীড়া শাসন আইন, ২০২৫-এর প্রভাব পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এছাড়া কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর নির্বাচন স্থগিত রাখার পরামর্শ থাকায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওসিএ দাবি করেছে, তাদের সাধারণ সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতেই নির্বাচনের তারিখ দুইবার পিছানো হয়েছে।
ওসিএ সূত্রে জানা যায়, প্রথমবার ৯ ডিসেম্বর ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার টি-টোয়েন্টি ম্যাচ আয়োজনের সুবিধার্থে এবং দ্বিতীয়বার সরকারি নির্দেশনার কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। তবে বিসিসিআইয়ের হলফনামায় পাল্টা যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, নতুন আইন কার্যকর হলেও ক্রিকেটকে এখনো সেই আইনের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী ক্রিকেট প্রশাসন একটি জনস্বার্থমূলক কাজ এবং তা আদালতের আওতাধীন বলেও বিসিসিআই তাদের অবস্থানে অনড়। এই আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী শুনানি আগামী বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে।
