Advertisement

সমস্যা সমাধানে দক্ষ ও পরিশ্রমী সোনাল দিনুশা শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের নতুন রত্ন

ক্রিকেট মাঠে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা আর সেই অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করাই যেন সোনাল দিনুশার সহজাত বৈশিষ্ট্য। জুলাই ২০২৫ সালে ডারউইনে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের হয়ে খেলার সময় অস্ট্রেলিয়ার লম্বা উচ্চতার পেসার মিচেল পেরি, লিয়াম স্কট এবং হেনরি থর্নটনের শর্ট বলের বিপক্ষে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল এই তরুণ ব্যাটারকে। কিন্তু দমে যাননি দিনুশা। কোচদের সাথে পরামর্শ করে এবং থ্রো-ডাউনের মাধ্যমে অনুশীলনে ওই শর্ট বলের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশল নির্ধারণ করে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ান তিনি। এর ফলাফল মেলে হাতেনাতে; প্রথম অনানুষ্ঠানিক টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৪৫ বলে ১০৫ রান এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ১৯১ বলে ৮৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন তিনি।

শ্রীলঙ্কার শক্তিশালী স্কুল ক্রিকেট কাঠামো থেকে উঠে আসা দিনুশার এই লড়াই করার মানসিকতা নতুন নয়। কলম্বোর ডি লা সাল কলেজ থেকে শুরু করে পরবর্তীতে মহানাম কলেজে পড়ার সময় থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মনোযোগী। কোচ সোনাল দুলশান এলওয়ালেগের অধীনে ১২ বছর বয়স থেকেই ক্রিকেটের পাঠ শুরু করেন তিনি। ২০২০ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ ডিভিশন ১ টুর্নামেন্টে রিচমন্ড কলেজের বিপক্ষে তার অপরাজিত ১৫৯ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসটি এখনো কোচদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। তখন মাত্র ১৯ বছর বয়সী দিনুশা দলের বিপর্যয়ে উইকেটে নেমে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

কলম্বো ক্রিকেট ক্লাবের (সিসিসি) হয়ে ২০১৮ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকের সময় থেকেই তার পরিপক্কতা সবার নজর কেড়েছে। অভিষেক ম্যাচে অভিজ্ঞ বোলার ধাম্মিকা প্রসাদ, নুয়ান প্রদীপ এবং সচিত্র সেনানায়েকেদের বিপক্ষে তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে অর্ধশতক হাঁকিয়েছিলেন তিনি। লঙ্কান কোচ আভিশকা গুনাওয়ার্দেনে বলেন, দিনুশা অত্যন্ত পদ্ধতিগত এবং স্মার্ট একজন ক্রিকেটার। তিনি নিজের শক্তির জায়গাগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন। তার সুইপ শট খেলার দক্ষতার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম। সিসিসিতে তার সতীর্থ আশান প্রিয়ানজান জানান, অনুশীলনের পর আলাদাভাবে কেবল সুইপ শটের জন্যই ঘণ্টার পর ঘণ্টা নেট সেশন করতেন দিনুশা।

বিজ্ঞাপন

বর্তমান লঙ্কান প্রধান কোচ গ্যারি কারস্টেনও দিনুশার ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তার বড় প্রশংসক। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে বিপর্যয়ের মুখে তার ৯৯ ও ৯২ রানের ইনিংস দুটি দেখে কারস্টেন মুগ্ধ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তার ১৩৩ রানের ইনিংসটিকে লঙ্কান টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ‘সেভ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন কারস্টেন। দিনুশার ব্যাটিংয়ের বড় শক্তির জায়গা হলো—তিনি প্রতিপক্ষের বোলারের পরিকল্পনা বুঝতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী নিজের স্কিল কাজে লাগান।

তবে কোনো অর্জনেই তৃপ্ত হয়ে বসে থাকার পাত্র নন দিনুশা। সিরিজের ব্যস্ততার মাঝেও পরবর্তী টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি নিয়ে ভাবছেন তিনি। সিসিসির হয়ে টি-টোয়েন্টি লিগ এবং মেজর লিগ ৫০ ওভারের টুর্নামেন্টে খেলার জন্য তিনি পুনরায় অনুশীলনে ফেরার তাড়না অনুভব করছেন। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের এই রত্ন তার কঠোর পরিশ্রম আর খেলার প্রতি অসামান্য নিবেদন দিয়ে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পথে। এখন শুধু প্রয়োজন তাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজের প্রতিভা মেলে ধরার প্রয়োজনীয় স্বাধীনতাটুকু দেওয়া।

0%
0%
0%
0%