Advertisement

টিএনপিএলে রহস্য স্পিনের জাদুতে আলো ছড়াচ্ছেন যমজ ভাই রোহন ও রাহুল ভুতরা

তামিলনাড়ু প্রিমিয়ার লিগে রহস্য স্পিনের জাদুতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন রোহান ভুতরা। টুর্নামেন্টের বর্তমান আসরে মাদুরাই প্যান্থার্সের হয়ে অভিষেকের মঞ্চেই বাজিমাত করেছেন তিনি। সালেম স্পার্টানসের বিপক্ষে মাত্র ৯ রান খরচায় ২ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন এই তরুণ স্পিনার। দুর্দান্ত ফর্ম অব্যাহত রেখে পরবর্তী ম্যাচে ডিন্ডিগুল ড্রাগন্সের বিপক্ষে ২৩ রান দিয়ে আবারও ২ উইকেট তুলে নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ম্যাচসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। প্রসঙ্গত, তিন বছর আগে এই ডিন্ডিগুল ড্রাগন্সই তাকে প্রথম চুক্তিবদ্ধ করেছিল।

ভুতরা ভাইদের ক্রিকেটে আসার গল্পটা বেশ নাটকীয়। তাদের পৈত্রিক নিবাস রাজস্থানে হলেও জন্ম ও বেড়ে ওঠা চেন্নাইয়ে। পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে আহমেদাবাদে পাড়ি জমান তারা। বাবার স্বপ্ন ছিল দুই ছেলেকে বড় ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তোলার। রহস্য স্পিনের প্রতি তাদের আগ্রহ জন্মায় বরুণ চক্রবর্তীর বোলিং অ্যাকশন দেখে। কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে তারা গড়ে তুলেছেন নিজেদের বোলিং শৈলী। ২০১৯ সালে আহমেদাবাদে জেলা পর্যায়ের দল থেকে বাদ পড়ার পর জীবন মোড় নেয় চেন্নাইয়ের দিকে। বাবার অকুন্ঠ সমর্থন ও ত্যাগে তারা পুনরায় চেন্নাইয়ে ফিরে আসেন এবং ক্রিকেট ড্রোম একাডেমিতে কোচ শ্রিনাথ সুরেশের অধীনে প্রশিক্ষণে যুক্ত হন।

বিজ্ঞাপন

ক্রিকেট ড্রোম একাডেমির কোচ ভিগনেশ কৃষ্ণরাজ এই দুই ভাইয়ের প্রতিভার ওপর অগাধ আস্থা রেখেছিলেন। তিনি রোহানকে আইপিএল খেলার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন এবং তাদের আর্থিক ও মানসিকভাবে সহায়তা করেছেন। রোহানের বোলিংয়ে বৈচিত্র্য ও রাহুল ভুতরার দ্রুত আর্ম-স্পিড ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে, মাঠে তাদের চেহারা হুবহু এক হওয়ায় প্রতিপক্ষ অনেক সময় বিভ্রান্তিতে পড়ে। কোচ কৃষ্ণরাজ জানান, ভাইয়েরা অদলবদল করে বোলিং করার কৌশলটি অনেক ম্যাচে তাদের বাড়তি সুবিধা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আইপিএল জয়ের মিশনে কলকাতা নাইট রাইডার্সের নেট বোলার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন রোহান। সেখানে অংকৃশ রঘুবংশীকে অনুশীলনে আউট করে তিনি নজর কাড়েন তৎকালীন সহকারী কোচ অভিষেক নায়ারের। এরপর শুভমন গিলের মতো তারকার বিপক্ষে বোলিং করে গুজরাট টাইটান্সের নজরেও আসেন তারা। বর্তমানে মাদুরাই প্যান্থার্স পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে, যেখানে রোহানের বোলিং বড় ভূমিকা রাখছে। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের একে অপরের সবচেয়ে বড় পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেন এই যমজ ভাই। ক্রিকেট নিয়ে সার্বক্ষণিক আলোচনার মাধ্যমে তারা একে অপরকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে চলেছেন। তাদের লক্ষ্য এখন আরও অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া।

0%
0%
0%
0%