লর্ডসের আঙিনায় ঐতিহাসিক জয়ের দ্বারপ্রান্তে ভারত, জয়ের জন্য প্রয়োজন মাত্র ৪ উইকেট

লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে আরও একটি অবিস্মরণীয় দিন উপহার দিল ভারত। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৫৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়ে জয়ের সুবাস পাচ্ছে সফরকারীরা। ইংল্যান্ডকে জয়ের জন্য বড় লক্ষ্য দেওয়ার পর বল হাতেও দাপট দেখিয়েছে ভারত, যার ফলে স্বাগতিকদের মাত্র ৪টি উইকেট তুলে নিয়ে টেস্ট জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে সফররত দলটি। জয়ের জন্য এখন মাত্র ৪টি উইকেট প্রয়োজন ভারতের।
দিনের শুরুতেই ইয়াসতিকা ভাটিয়ার ব্যাটে ভর করে রানের গতি বাড়িয়ে নেয় ভারত। লরেন বেলের করা প্রথম বলেই ইয়াসতিকা আউট হতে পারতেন, কিন্তু ভাগ্যের সহায়তায় বেঁচে যান তিনি। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি এই ব্যাটারকে। লরেন বেল, সোফি একলেস্টোন এবং ম্যাডি ভিলার্সদের বোলিং তোপ সামলে মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর লর্ডসের ঐতিহাসিক অনার্স বোর্ডে নিজের নাম খোদাই করেন ইয়াসতিকা। যদিও সেঞ্চুরির পর একলেস্টোনের বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে, তবে ততক্ষণে ভারত শক্ত অবস্থানে পৌঁছে গেছে।
ভারতের ইনিংসের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন রিচা ঘোষ। তিনি ৫২ বলে ঝড়ো অর্ধশতক হাঁকিয়ে দলের রানকে দ্রুত লক্ষ্যমাত্রার দিকে নিয়ে যান। অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর যখন ডিক্লেয়ারেশনের ইঙ্গিত দিলেন, ততক্ষণে ম্যাচ থেকে অনেকটা ছিটকে গেছে ইংল্যান্ড। ভারত ৪৫৭ রানের বিশাল লক্ষ্য দেওয়ার পেছনে রিচা ঘোষ ও ইয়াসতিকার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। সোফি একলেস্টোন ৫ উইকেট শিকার করলেও ভারতের রানের লাগাম টেনে ধরতে পারেননি।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয়েছে দুঃস্বপ্নের মতো। ক্রান্তি গৌড় ও সায়ালি সাথাগারের বিধ্বংসী বোলিং তোপে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় স্বাগতিকদের টপ অর্ডার। ম্যাচের প্রথম দশ ওভারে বলের মুভমেন্ট ছিল দুর্দান্ত, যা কাজে লাগিয়ে তামিম বিউমন্টকে শূন্য রানে বোল্ড করেন গৌড়। সায়ালি সাথাগারে এরপর মায়া বুশিয়ারকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন। হেদার নাইট এবং অ্যালিস ক্যাপসিও সাজঘরে ফিরেছেন ভারতীয় বোলারদের নিখুঁত লাইনে করা বলের তোপে।
ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা ভারতীয় পেসারদের গতির সামনে কোনো পাত্তাই পাননি। গৌড় এবং সাথাগারে প্রায় ৮৯ শতাংশ ডেলিভারি গুড এবং হার্ড লেংথে রেখে ইংল্যান্ডকে কোনো সুযোগই দেননি। অফস্পিনার স্নেহ রানা এক প্রান্ত থেকে বল আঁটসাঁট রেখে উইকেট পতনের মিছিলে দারুণ সহায়তা করেছেন। সব মিলিয়ে লর্ডসের সবুজ গালিচায় এখন ভারতীয় আধিপত্য স্পষ্ট। চতুর্থ দিন শেষে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপের করুণ দশা দেখে জয় এখন সময়ের দাবি মাত্র।