লর্ডসে বিপ্লব ঘটিয়ে জয়ের পথে ভারত ক্রান্তি গৌডের পাঁচ উইকেটে দিশেহারা ইংল্যান্ড

লর্ডসের ঐতিহাসিক আঙিনায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে দাপুটে অবস্থানে ভারত। ক্রান্তি গউডের বিধ্বংসী পাঁচ উইকেটের সৌজন্যে স্বাগতিকদের দ্রুত গুটিয়ে দিয়ে ভারত নিজেদের সংগ্রহকে এগিয়ে নিয়েছে ২৬৯ রানে। হাতে ৯ উইকেট রেখে খেলা শেষ করার পর ভারতের জয়ের পথ এখন সুগম। ইংল্যান্ডের মাটিতে নিজেদের অপরাজিত থাকার গৌরবময় রেকর্ড অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্য নিয়ে দুই দিন বাকি থাকতেই সফরকারীরা এখন চালকের আসনে।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে অধিনায়ক হারমানপ্রীত কাউরের কৌশলী নেতৃত্বে ভারত বল হাতে রীতিমতো আগুন ঝরায়। প্রথম ওভারে শ্রী চারণিকে আক্রমণে আনলেও দ্রুত পেস আক্রমণে ফিরে আসেন হারমানপ্রীত। ক্রান্তি গউড বল হাতে আগের দিনের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের দিশেহারা করে তোলেন। তার নিখুঁত লাইন-লেংথ এবং ‘ওবল সিম’ ডেলিভারিতে নাকাল হতে হয়েছে ইংলিশ ব্যাটারদের। সায়ালি সাতঘারের বলে হেদার নাইট এলবিডব্লিউ হওয়ার পর ক্রান্তি গউড মায়া বাউচারকে ফিরিয়ে দেন। অ্যালিস ক্যাপসি শুরুতে জীবন পেলেও গউডের এক দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন।

দ্বিতীয় সেশনে ন্যাট সিভার-ব্রান্টকে সাজঘরে ফিরিয়ে গউড লর্ডসের সম্মানসূচক বোর্ডে নিজের নাম খোদাই করেন। বোলারদের বারবার প্রান্ত পরিবর্তন এবং স্পিনারদের দিয়ে ক্রমাগত আক্রমণের কৌশলে ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের থিতু হতে দেয়নি ভারত। যদিও অ্যামি জোন্স আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৫৯ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন, কিন্তু ভারতের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের প্রতিরোধ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ভারতের স্পিনার শ্রী চারণি অবশ্য লর্ডসে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি, তার লেংথ এবং লাইন নিয়ে বেশ ভুগতে হয়েছে তাকে।

বিশাল ব্যবধানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ভারতের দুই ওপেনার শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানা দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৮৮ রান, যা লিডকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করে দেয়। শেফালি ভার্মা সফি একলেস্টোনের শিকার হয়ে ফিরলেও স্মৃতি মান্ধানা এবং ইয়াস্তিকা ভাটিয়া দারুণ বুদ্ধিমত্তার সাথে ইংল্যান্ডের স্পিন আক্রমণ মোকাবিলা করেন।

বিজ্ঞাপন

উইকেটে টিকে থাকতে এই দুই ব্যাটারের পায়ের কাজ ছিল দেখার মতো। একলেস্টোন এবং ম্যাডি ভিলিয়ার্সের ঘূর্ণি সামলাতে তারা ক্রমাগত ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে বলের পিচে গিয়ে খেলার কৌশল বেছে নেন। ইয়াস্তিকা ভাটিয়া তার চারটি বাউন্ডারির প্রতিটিই নিয়েছিলেন ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে। স্মৃতি মান্ধানাও বরাবরের মতোই ছন্দে ছিলেন, ইসি ওংয়ের এক ওভারে টানা তিন বাউন্ডারি হাঁকিয়ে নিজের ব্যাটিং গভীরতার প্রমাণ দেন। দ্বিতীয় দিন শেষে ভারত এখন জয়ের সুবাস পাচ্ছে, যা সফরকারীদের জন্য এক উজ্জ্বল সাফল্যের দিন হিসেবেই গণ্য হবে।

0%
0%
0%
0%