লর্ডসের ঐতিহাসিক টেস্টে স্বপ্নপূরণের অপেক্ষায় হারমানপ্রীতের ভারত

নারী টেস্ট ক্রিকেটের অপ্রতুলতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিনের আলোচনা থাকলেও ক্রিকেটের মক্কা খ্যাত লর্ডসে ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচটি নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত মাত্র চারটি দল—অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা—টেস্ট ফরম্যাটে অংশ নিয়েছে এবং গত সাড়ে পাঁচ বছরে অনুষ্ঠিত হয়েছে মোটে ১৩টি টেস্ট ম্যাচ। এমন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে লর্ডসের মাঠে নামার প্রাক্কালে ভারতীয় দলের অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর খোলাখুলিভাবেই জানালেন, ক্রিকেটার হিসেবে দীর্ঘ ফরম্যাটে খেলার সুযোগ তারা আরও বেশি প্রত্যাশা করেন।
হারমানপ্রীতের মতে, নারী ক্রিকেট সঠিক পথেই এগোচ্ছে এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার ন্যস্ত কর্তৃপক্ষের ওপরই থাকা শ্রেয়। তবে খেলোয়াড় হিসেবে তিনি ঘরে বসে না থেকে মাঠে সময় কাটানোকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি মনে করেন, গত মার্চ মাসে খেলা টেস্টের পর লর্ডসে এই ম্যাচটি প্রমাণ করে যে পরিস্থিতি ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে মোড় নিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি টেস্ট ম্যাচের দেখা মিলবে।
টেস্ট ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘরোয়া লাল বলের ক্রিকেট কাঠামোর গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন হারমানপ্রীত। তিনি বলেন, অতীতে ঘরোয়া স্তরে লাল বলের ক্রিকেট থাকলেও বর্তমানে সাদা বলের ক্রিকেটের আধিক্য বেড়েছে। তবে বোর্ড এখন পুনরায় লাল বলের ঘরোয়া আসর নিয়ে আগ্রহী হওয়ায় তিনি আশাবাদী। তার মতে, যথাযথ প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া গেলে দলের পারফরম্যান্স আরও কার্যকর হতো।
লর্ডসের পবিত্র মাঠে খেলার স্বপ্ন পূরণ হওয়া নিয়ে আবেগাপ্লুত ভারতীয় দলপতি। লর্ডসে নারীদের টেস্ট ম্যাচ আগে কখনো না হওয়ার বিষয়টি তাকে কিছুটা অবাক করলেও তিনি এটাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। তার ভাষায়, এটি দেরিতে হলেও খুব বেশি দেরি হয়ে যায়নি। নিজের খেলোয়াড়ি জীবনে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে পারাটা তার এবং পুরো দলের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও উত্তেজনার বিষয়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আশানুরূপ ফল না পাওয়ার হতাশা ঝেড়ে ফেলে এখন পুরো দল টেস্ট চ্যালেঞ্জের দিকেই মনোনিবেশ করেছে। হারমানপ্রীতের কণ্ঠে ফুটে উঠল দৃঢ় সংকল্প। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের শেষ দুটি টেস্ট জয়ের সুখস্মৃতি দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। সাদা পোশাকে মাঠে নামার উন্মাদনা দলের প্রতিটি সদস্যের মধ্যে স্পষ্ট এবং মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত ভারত।