ছাই থেকে ফিনিক্স হয়ে ফাইনালে ইংল্যান্ড লর্ডসের মহাযুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি সাইভার ব্রান্টের দল

২০২৫ সালের সেই দুঃসহ অ্যাশেজ সিরিজের স্মৃতি আজও ইংল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলের জন্য এক গভীর ক্ষত হয়ে রয়েছে। সে সময় কোনো ফরম্যাটেই জয়ের দেখা না পাওয়া দলটি তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় এবং অস্ট্রেলিয়া সফরের ভরাডুবি দলের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল। সমালোচনার তোপে অধিনায়ককে দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছিল, পরিবর্তন এসেছিল কোচিং প্যানেলেও। সেই অন্ধকার সময় থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে আজ ইংল্যান্ড নারী দল লর্ডসের ফাইনালে দাঁড়িয়ে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন বুনছে।

বিজ্ঞাপন

২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে নাটালি সিভার-ব্রান্টের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড দল এখন নতুন এক উচ্চতায়। তবে সিভার-ব্রান্ট পরিষ্কার জানিয়েছেন, অতীতের প্রতিশোধ নেওয়ার কোনো বাসনা তাদের নেই। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাশেজের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার পর পুরো দলটি কঠোর পরিশ্রম করে নিজেদের ঢেলে সাজিয়েছে। ঘরের মাঠে লর্ডসের মতো ঐতিহাসিক ভেন্যুতে ফাইনাল খেলার উপলক্ষটি এমনিতেই বিশাল, যেখানে পুরনো হিসাবের চেয়ে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনই এখন মুখ্য।

টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচ জিতে অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠে এসেছে স্বাগতিকরা। ড্যানি ওয়াট, সিভার-ব্রান্ট এবং হেদার নাইটদের মতো সিনিয়র খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি দলের তরুণ ক্রিকেটাররাও পারফর্ম করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে ড্যানিয়েল গিবসন এবং ফ্রেয়া কেম্পের মতো তরুণীদের ডেথ ওভারে আগ্রাসী ব্যাটিং ও বোলিং দলকে দিয়েছে বাড়তি স্বস্তি। চাপের মুখেও বোলিং গ্রুপের গতির পরিবর্তন এবং কৌশলে অটল থাকার বিষয়টি প্রশংসা কুড়িয়েছে সব মহলে।

আট বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়াটা ইংলিশ ক্রিকেটের জন্য এক মাইলফলক। তবে সিভার-ব্রান্ট এখনো এই সাফল্যের বিশালতাকে পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারছেন না। তার মতে, টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর অবসরে গিয়েই হয়তো তারা বুঝতে পারবেন এই অর্জন দেশের মানুষের কাছে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০৯ ও ২০১৭ সালে চার্লট এডওয়ার্ডস ও হেদার নাইটের বিশ্বকাপ জয়ের অনুপ্রেরণা তাদের সঙ্গে রয়েছে। তবে ফাইনালে অতিরিক্ত কিছু করার তাড়নায় নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে রাজি নন তিনি।

বিজ্ঞাপন

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচটি যে বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো ভ্রান্তি নেই সিভার-ব্রান্টের। তিনি জানান, প্রতিপক্ষ দলকে তারা খুব ভালো করেই চেনেন। নকআউট ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং সাফল্যের রেকর্ড সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল। তবে নিজেদের পরিকল্পনার ওপর আস্থা রেখে ইংল্যান্ড দল এখন পুরো মনোযোগ দিচ্ছে লর্ডসের সেই চূড়ান্ত লড়াইয়ের দিকে। আগামী ৫ জুলাইয়ের সেই মহাযুদ্ধেই নির্ধারিত হবে নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের নাম।

0%
0%
0%
0%