জয়হীনতার বৃত্ত ভাঙার লড়াইয়ে মুখোমুখি পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডস

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে পাকিস্তান এবং নেদারল্যান্ডস উভয় দলেরই। টুর্নামেন্টের পয়েন্ট টেবিলে এখন নামের পাশে কেবল একটি ‘ই’ বা এলিমিনেশন চিহ্ন ঝুলে আছে দুই দলেরই। চার ম্যাচ খেলে চারটিতেই পরাজিত হয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে অবস্থান করছে তারা। তবে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়ে একটি জয় নিয়ে দেশে ফেরার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে দুই দল। জয়হীন টুর্নামেন্ট শেষ করার যে গ্লানি, তা থেকে মুক্তি পেতে মরিয়া পাকিস্তান এবং নেদারল্যান্ডস—উভয় শিবিরই।
প্রথমবারের মতো নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়া নেদারল্যান্ডস অবশ্য তাদের স্বপ্নের পূর্ণতা পায়নি। অধিনায়ক বাবেট ডি লিডের লক্ষ্য ছিল কমপক্ষে দুটি জয় তুলে সরাসরি পরবর্তী আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা, তবে মাঠের লড়াইয়ে তা সম্ভব হয়নি। বড় ব্যবধানে হারলেও শেষ ম্যাচে জয় নিয়ে স্মৃতিমধুর সমাপ্তি টানতে চায় দলটি। অন্যদিকে, পাকিস্তানের জন্য চ্যালেঞ্জটা আরও গভীর। ইতিহাসের পাতায় ২০১০ সালের পর থেকে কোনো বিশ্বকাপ জয়হীন অবস্থায় শেষ করেনি পাকিস্তান। ফাতিমা সানার নেতৃত্বাধীন দলটি এবার সেই বিব্রতকর রেকর্ড এড়াতে বদ্ধপরিকর।
ব্রিস্টলের মাঠে তাপমাত্রা সহনীয় থাকার সম্ভাবনা থাকায় দুই দলের ব্যাটাররাই রানের দেখা পেতে পারেন। নেদারল্যান্ডস তাদের উদ্বোধনী জুটিতে নতুন মুখদের ওপর আস্থা রাখতে পারে। ফিবি মোলকেনবোয়ার এবং সানিয়া খুরানার মতো তরুণদের আগ্রাসী ব্যাটিং পাওয়ারপ্লেতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। নেদারল্যান্ডসের কোচ নেইল ম্যাকরে জানিয়েছেন, এই টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা তাদের পরবর্তী বাছাইপর্বগুলোতে দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা দেবে। তরুণীদের শেখার মানসিকতা এবং উন্নতির গ্রাফ নিয়েই তারা শেষ ম্যাচে জয়ের ছক কষছে।
পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ অবশ্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাত্র ৮৬ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর একাদশে পরিবর্তন আনতে পারে দলটি। আইমান ফাতিমার মতো মারকুটে ব্যাটারকে একাদশে দেখা যেতে পারে, যিনি টি-টোয়েন্টিতে দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা রাখেন। ফাতিমা সানা নিজেও দলের ব্যাটিং ও বোলিংয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। চলতি বছর ফাতিমা সানা ২২ ইনিংসে ১৬৪.৩০ স্ট্রাইক রেটে ৭৬৪ রান করে দলের মূল ভরসা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। বিপরীতে নেদারল্যান্ডসের স্টেরে কালিস ১৬৪৭ রান সংগ্রহ করলেও স্ট্রাইক রেটে বেশ পিছিয়ে আছেন।
পরিসংখ্যান বলছে, ব্রিস্টলের উইকেট পাওয়ারপ্লেতে রান তোলার জন্য আদর্শ। এই মাঠে টুর্নামেন্টে প্রতি ওভারে গড়ে ৭ রান করে উঠেছে। পাকিস্তান এবং নেদারল্যান্ডস উভয় দলের বোলারদের জন্য এটি হবে অগ্নিপরীক্ষা। জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করে মর্যাদার লড়াইয়ে টিকে থাকাই এখন দুই অধিনায়কের মূল এজেন্ডা। মাঠের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কোন দল হারের বৃত্ত ভেঙে জয়ের মুখ দেখে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় ভক্ত-সমর্থকরা।