অভিষেকের আলোয় উদ্ভাসিত মানব সুথার ঘূর্ণিতে বিপর্যস্ত আফগানিস্তান

দীর্ঘ ১৫ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং রবীন্দ্র জাদেজাকে ছাড়াই কোনো টেস্ট ম্যাচে মাঠে নেমেছিল ভারত। স্বাভাবিকভাবেই সবার নজর ছিল অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা ২৩ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার মানব সুথারের ওপর। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে আসা এই রাজস্থানি স্পিনার মোল্লাপুরের মাঠে কেবল মানিয়েই নেননি, বরং দুই দলের স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন তিনি। ১৫.৫ ওভার বল করে মাত্র ২১ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট শিকার করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বড় মঞ্চে জ্বলে ওঠার জন্য তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে সুথারের বোলিং বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি কতটা নিয়ন্ত্রিত ছিলেন। ৯৫টি বলের মধ্যে ৯৪টিই তিনি পিচ করেছেন গুড-লেংথ বা তার সামান্য পেছনে, যা ব্যাটারদের জন্য স্বস্তি খুঁজে পাওয়া অসম্ভব করে তুলেছিল। সুথারের বিরুদ্ধে ব্যাটারদের ভুল শট খেলার হার ছিল ২৯.৪ শতাংশ, যা এই ইনিংসে ব্যবহৃত ছয়জন স্পিনারের মধ্যে সর্বোচ্চ। তার মিতব্যয়ী বোলিংয়ের ইকোনমি রেট ছিল ১.৩২ এবং ডট বলের হার ছিল ৮৯.৪ শতাংশ। ধীরগতির উইকেটেও তিনি দুর্দান্ত টার্ন ও বাতাসে বলের গতি নিয়ন্ত্রণে রেখে আফগানিস্তানের ব্যাটারদের চরম বিপাকে ফেলেছিলেন।

চা বিরতির ঠিক আগে ষষ্ঠ ওভারে আক্রমণে এসে সুথার দ্রুতই প্রভাব বিস্তার করেন। নতুন বলে টার্ন আদায় করে তিনি ফিরিয়ে দেন আব্দুল মালিককে। এরপর রহমানউল্লাহ গুরবাজ একটি ছক্কা হাঁকালেও সুথারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে তাকে অসহায় মনে হচ্ছিল। এক পর্যায়ে গুরবাজকে দারুণ এক টার্নিং ডেলিভারিতে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন এই তরুণ। দিনের শেষ বলে আফসার জাজাইকে আউট করে নিজের রাজকীয় অভিষেকের দিনটি স্মরণীয় করে রাখেন তিনি।

সুথারের এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন সতীর্থ ওয়াশিংটন সুন্দর। তার মতে, সুথার প্রতিটি ডেলিভারিতে নিজের সর্বস্ব ঢেলে দেন এবং বল ছাড়ার সময় শারীরিক শক্তির সঠিক ব্যবহার করেন। আফগানিস্তানের প্রধান কোচ রিচার্ড পাইবাসও তরুণ এই স্পিনারের ধারাবাহিকতার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, সুথার যেভাবে নিজের লেংথ ধরে রেখে চাপ তৈরি করেছেন, তা এক কথায় অসাধারণ।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচ শেষে সুথার নিজেই জানালেন তার সাফল্যের মূলমন্ত্র। তিনি বলেন, পিচ থেকে বল ঘোরানোর সুযোগ ছিল, আর নিজের শক্তির জায়গা কাজে লাগিয়ে সঠিক লাইনে বল রাখাই ছিল মূল লক্ষ্য। যদিও এটি কেবল শুরু, তবে অশ্বিন-জাদেজার অনুপস্থিতিতে সুথারের এই পারফরম্যান্স ভারতীয় স্পিন আক্রমণের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের বার্তা দিচ্ছে। তার এই আত্মবিশ্বাস এবং কৌশল ভারতীয় ক্রিকেটের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এক দারুণ প্রতিশ্রুতি হয়ে থাকবে।

0%
0%
0%
0%