মুম্বাই টি-টোয়েন্টি লিগে মুখোমুখি দুই অধিনায়ক স্রেয়াশ ও সূর্যকুমার

মুম্বাইয়ের টি-টোয়েন্টি লিগের শনিবারের রাতের ম্যাচটি ঘিরে এখন সাজ সাজ রব। নিয়তির কি অদ্ভুত পরিহাস, একই মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন ভারতীয় দলের নতুন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার এবং সদ্য নেতৃত্ব হারানো সূর্যকুমার যাদব। মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে এই দুই তারকার লড়াই নিঃসন্দেহে সপ্তাহান্তের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, দুই অধিনায়কই তাদের নিজ নিজ দলের হয়ে মাঠে নামতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শ্রেয়াস আইয়ার যেমন বিকেলে জাতীয় নির্বাচকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক সেরে দ্রুত মাঠে ছুটেছেন ‘সোবো মুম্বাই ফ্যালকনস’-এর নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য, তেমনি সূর্যকুমারের দিকেও তাকিয়ে আছে অগুনতি ভক্ত।

বিজ্ঞাপন

মাত্র তিন মাস আগেও পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সূর্যকুমার যাদব যখন ভারতকে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ দিয়েছিলেন, তখন ১৪০ কোটির বেশি মানুষের প্রত্যাশার পাহাড় সামলে তিনি ছিলেন অনন্য। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও অভিষেক শর্মা কিংবা সঞ্জু স্যামসনের মতো ছন্দহীন খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রেখে তিনি যে নেতৃত্ব দেখিয়েছেন, তা ছিল বিশ্বমানের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জসপ্রীত বুমরাহর বোলিং পরিবর্তন এবং চাপের মুখে ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত তাকে একজন দূরদর্শী অধিনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। ৫২ ম্যাচে ৪২ জয় এবং ৮৪ শতাংশ সাফল্যের হার—এমন ঈর্ষণীয় রেকর্ডের অধিকারী তিনি, যেখানে ৯টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজের একটিতেও হারেনি তার দল।

তবে বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘ বিরতি এবং মাঠের পারফরম্যান্সে ভাটা সূর্যকুমারের ভাগ্যে নেমে আসে অন্ধকার। সর্বশেষ আইপিএলের ১৩ ম্যাচে মাত্র ২৭০ রান এবং বিশ্বকাপের ৯ ম্যাচে ৩০ গড়, অধিনায়ক হিসেবে তার ফর্মের গ্রাফকে নিচের দিকে নামিয়ে দিয়েছে। অজিত আগারকারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি যদিও একে একটি কঠিন সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছে, তবে নতুন ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর তাগিদেই তারা নেতৃত্ব পরিবর্তনের পথে হেঁটেছে। বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক জয়ের স্বপ্ন দেখা সূর্যকুমার চেয়েছিলেন ২০২৬ সালের টুর্নামেন্ট এবং অলিম্পিক পর্যন্ত দলকে নেতৃত্ব দিতে, কিন্তু নির্বাচকদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কাছে সেটি থমকে গেছে।

দল থেকে বাদ পড়ার আগে সূর্যকুমারের ব্যক্তিগত নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে মুম্বাইয়ের ক্রিকেট পাড়ায় জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গে তার বৈঠক নির্বাচক কমিটির সভার ঠিক আগের রাতে নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। তার রাজনীতিতে আসার গুঞ্জন নিয়েও চলছে বিস্তর আলোচনা। তবে সবকিছু ছাপিয়ে এখন প্রশ্ন একটাই, মাঠের ক্রিকেটে কি আবারও পুরনো ছন্দে ফিরতে পারবেন এমএস ধোনির পর ভারতের অন্যতম শান্ত এই অধিনায়ক? উত্তর মিলবে শনিবারের শ্বাসরুদ্ধকর এই দ্বৈরথে।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%