টেস্ট ক্রিকেটে টিকে থাকতে আফগানিস্তানের প্রয়োজন নিয়মিত সূচি দাবি কোচ রিচার্ড পাইবাসের

আফগানিস্তানের টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে নিয়মিত খেলার সুযোগের ওপর। জোনাথন ট্রটের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া নতুন প্রধান কোচ রিচার্ড পাইবাস মনে করেন, দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে হলে নিয়মিত ফিক্সচার পাওয়া এখন আফগানদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ২০১৮ সালে ব্যাঙ্গালুরুতে ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট অভিষেকের পর গত ৮ বছরে মাত্র ১২টি টেস্ট খেলেছে আফগানিস্তান, যার সর্বশেষটি ছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।
ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রাক্কালে সংবাদ সম্মেলনে পাইবাস সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল তথা আইসিসির দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার পর সেই দেশের জন্য পর্যাপ্ত ম্যাচ নিশ্চিত করা আইসিসির নৈতিক দায়িত্ব। কেবল বিশ্বকাপ বা বড় টুর্নামেন্টের অপেক্ষায় না থেকে অন্য শক্তিশালী টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোরও উচিত আফগানিস্তানের সঙ্গে নিয়মিত সিরিজ খেলার ব্যাপারে এগিয়ে আসা। তার মতে, অতীতে অনেক দেশের উন্নতির গ্রাফ কেবল ম্যাচ না পাওয়ার কারণে থমকে গিয়েছিল, আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে সেই ইতিহাস পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া যাবে না।
নতুন কোচ হিসেবে পাইবাসের প্রথম লক্ষ্য দলের খেলোয়াড় এবং কাঠামোর সঙ্গে পরিচিত হওয়া। ইতোমধ্যে কাবুল সফর করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। আফগানিস্তানের ঘরোয়া ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটের মান নিয়ে তিনি দারুণ সন্তুষ্ট। তার দাবি, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া কাঠামোর সাথে তুলনা করলে আফগানদের ক্রিকেটের ভিত যে বেশ মজবুত, তা সহজেই অনুমেয়। জোনাথন ট্রট গত ৪ বছরে যে চমৎকার ভিত্তি গড়ে দিয়ে গেছেন, তার ওপর ভিত্তি করেই সামনের দিকে এগোতে চান নতুন এই কোচ।
আফগানিস্তানের ক্রিকেটের প্রতি আবেগ তাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। কাবুল থেকে জালালাবাদ যাওয়ার পথে দেখা পাথুরে মাঠগুলোতে পাথরের তৈরি সীমানা আর কংক্রিটের পিচে শিশুদের ক্রিকেট খেলার দৃশ্য দেখে তিনি অভিভূত। সীমাবদ্ধতার মাঝেও এমন অদম্য উৎসাহ থেকেই রশিদ খান বা মোহাম্মদ নবীর মতো বিশ্বমানের তারকারা উঠে এসেছেন বলে মনে করেন তিনি। তার কথায়, এই আবেগই নতুন প্রজন্মের শিশুদের স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাচ্ছে।
তবে বাস্তবতার নিরিখে টেস্ট ক্রিকেটে টিকে থাকতে হলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই। পাইবাসের মতে, একটি টেস্ট খেলার পর যদি ৪ থেকে ৫ মাস বিরতি পড়ে, তবে কোনো ক্রিকেটারই সেখান থেকে প্রকৃত শিক্ষা নিতে পারে না। ক্রিকেটের উন্নতির জন্য ধারাবাহিকভাবে সিরিজ খেলার কোনো বিকল্প নেই। আর এই চ্যালেঞ্জ কেবল আফগানিস্তানের একার নয়, বরং পুরো ক্রিকেট বিশ্ব এবং আইসিসির সম্মিলিত পরিকল্পনার ওপরই নির্ভর করছে আফগানিস্তানের টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ।
