২০২৭ আইপিএলেও ধোনির রাজকীয় প্রত্যাবর্তন! আশাবাদী চেন্নাই সুপার কিংস

চেন্নাইয়ের ওয়ালাজাহ রোডে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে ঘিরে উন্মাদনা তখন তুঙ্গে। ঘরের মাঠে চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) ২০২৬ মৌসুমের শেষ ম্যাচে অন্তত একবারের জন্য প্রিয় ‘থালা’কে মাঠে দেখতে ব্যাকুল ছিলেন ভক্তরা। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে এক চরম হতাশায়। চোটের কারণে শুধু ঘরের মাঠের সেই ম্যাচই নয়, আহমেদাবাদে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে ম্যাচটিতেও মাঠে নামা হয়নি ভারতের এই কিংবদন্তি উইকেটরক্ষক-ব্যাটারের।

বিজ্ঞাপন

মৌসুমের শুরুতে পেশির চোট এবং পরবর্তীতে বুড়ো আঙুলের আঘাতে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে যান ধোনি। দীর্ঘ ১৯ বছরের আইপিএল ইতিহাসে এই প্রথম পুরো আসরে তাকে মাঠের বাইরেই কাটাতে হলো। আগামী জুলাইয়ে ৪৫ বছরে পা দিতে যাওয়া ধোনির শরীর আর আগের মতো সায় দিচ্ছে না। ফলে তার আইপিএল ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে এখন একটাই সংশয়—ধোনি কি তবে নিজের অজান্তেই তার শেষ আইপিএল ম্যাচটি খেলে ফেলেছেন?

ধোনি একসময় জানিয়েছিলেন, চেন্নাইয়ের মাঠেই তিনি তার আইপিএল ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন। তাই ঘরের মাঠে সিএসকের শেষ ম্যাচটি ঘিরে বিদায়ের সুর চড়ছিল। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষ এখনই হাল ছাড়তে রাজি নয়। ক্রিকবাজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিএসকের প্রধান নির্বাহী কাশি বিশ্বনাথন আশাবাদী যে ধোনি আগামী মৌসুমে আবারও মাঠে ফিরবেন। তিনি জানিয়েছেন, ধোনির সঙ্গে এ বিষয়ে তাদের এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক কথা হয়নি, তবে ভক্তদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে ধোনি আবারও চেন্নাইয়ের হলুদ জার্সিতে মাঠ মাতাবেন বলেই তাদের বিশ্বাস।

মূলত আহমেদাবাদের স্থানীয় নির্বাচনের কারণে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ম্যাচের সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন এনেছিল, যা চেন্নাইয়ের সব পরিকল্পনা ও হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে দেয়। তবে এবারের মৌসুমে ধোনি মাঠের বাইরে থাকলেও দল পরিচালনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেননি। অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড় ও কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংকে নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন তিনি। ফিনিশার হিসেবে জেমি ওভারটনের পারফরম্যান্সেও ধোনি বেশ সন্তুষ্ট ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

ধোনির ভবিষ্যতের পাশাপাশি কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের সিএসকেতে থাকা না-থাকা নিয়েও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের সাবেক কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ হয়নি। কাশি বিশ্বনাথন জানিয়েছেন, দলের ক্রিকেটীয় বিষয়গুলো নিয়ে তারা সঠিক সময়ে আলোচনা করবেন। ফ্লেমিং ২০০৯ সালের দ্বিতীয় আসর থেকে চেন্নাইয়ের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। তার অধীনে দল ৫টি শিরোপা ও ১০ বার প্লে-অফে উঠলেও, বিগত ৩ মৌসুমে শেষ চারে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চেন্নাই। ২০২২ সালের পর থেকে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স (০.৬৮১) ও চেন্নাই সুপার কিংসের (০.৭৭৫) জয়-পরাজয়ের অনুপাত লিগের অন্যতম দুর্বলতম হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।

ফ্লেমিং বর্তমানে শুধু আইপিএলই নয়, মেজর লিগ ক্রিকেটে টেক্সাস সুপার কিংস এবং এসএ২০ লিগে জোহানেসবার্গ সুপার কিংসের প্রধান কোচের দায়িত্বেও রয়েছেন, যেখান থেকে তার বার্ষিক আয় প্রায় ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগামী ১৮ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া মেজর লিগ ক্রিকেটের ব্যস্ততার কারণে কোচের ভাগ্য নির্ধারণে আরও কিছুটা সময় নেবে সিএসকে। তবে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি অবশ্যই ধোনিকে আস্থায় নেবে, কারণ খেলা চালিয়ে যান আর নাই বা যান, চেন্নাই সুপার কিংসের নীতি নির্ধারণে ধোনির মতামতের গুরুত্ব থাকবে সবচেয়ে বেশি।

0%
0%
0%
0%