অনুকূলের ঘূর্ণিতে নর্থ ইস্ট জোনের অসহায় আত্মসমর্পণ ও উত্তেজনার পারদ চড়ানো নর্থ বনাম ওয়েস্ট জোন লড়াই

দুলিপ ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে নর্থ ইস্ট জোনকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে ইস্ট জোন। অনুকুল রায়ের বিধ্বংসী বোলিং তোপে পড়ে নর্থ ইস্ট জোনের ব্যাটিং লাইনআপ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। প্রথম ইনিংসে ১১১ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে তারা সংগ্রহ করতে পারে মাত্র ১৪৬ রান। অনুকুল রায় ৩৭ রানে ৫ উইকেট শিকার করে প্রতিপক্ষের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। এটি তার প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের সপ্তম পাঁচ উইকেট শিকার। ম্যাচসেরার পুরস্কার অবশ্য গেছে শাহবাজ আহমেদের ঝুলিতে, যিনি ব্যাট হাতে ১৬৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলার পাশাপাশি বল হাতে ৪ উইকেট তুলে নিয়েছেন। অধিনায়ক ইশান কিষাণ কিপিং গ্লাভস হাতে দারুণ তৎপর ছিলেন, তিনি চার ক্যাচ ও একটি স্টাম্পিংয়ের মাধ্যমে বোলারদের দারুণ সহায়তা করেন। নর্থ ইস্ট জোনের পক্ষে পেরিজাম জটিন ৩৯ এবং আকাশ চৌধুরী ২৭ রানের ইনিংস খেলে লড়াই করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ইনিংস ও ২১০ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয় মেনে নিতে হয় তাদের।

এদিকে নর্থ জোন ও ওয়েস্ট জোনের মধ্যকার লড়াইটি মোড় নিয়েছে রোমাঞ্চকর দিকে। জয়ের জন্য ওয়েস্ট জোনের প্রয়োজন আরও ৬৭ রান, হাতে রয়েছে মাত্র তিন উইকেট। দিনের শেষভাগে আবিদ মুশতাকের ঘূর্ণিতে ওয়েস্ট জোন ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। মুশির খান ৯৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেললেও সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন। রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের সাথে তার ১১১ রানের জুটি ওয়েস্ট জোনকে জয়ের পথেই রেখেছিল, কিন্তু গায়কোয়াড় ৬৬ রানে রানআউট হওয়ার পর ছন্দপতন ঘটে। পিচে বল মারাত্মক টার্ন ও বাউন্স পাওয়ায় মুশির খান শেষ পর্যন্ত নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন। দিনের শেষ ৩৩ মিনিটে আবিদ মুশতাক শামস মুলানি ও মুকেশ চৌধুরীকে সাজঘরে ফিরিয়ে নর্থ জোনকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন। শেষ দিনে উরভিল প্যাটেলের সাথে শার্দুল ঠাকুর ও তানুশ কোটিয়ানদের ওপর নির্ভর করছে ওয়েস্ট জোনের ভাগ্য। নর্থ জোন তাদের ২২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে থাকা ওয়েস্ট জোনকে ২২০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে কঠিন চাপের মুখে ফেলেছে।

০%
০%
০%
০%