AdvertisementAdvertisement

মার্শের চাঞ্চল্যকর সেঞ্চুরির পর সংকীর্ণ জয় তুলে নেয় এলএসজি

মার্শের সেঞ্চুরির পরও জয় পেল না আরসিবি, শেষ ওভারে লখনউয়ের নাটকীয় জয়

মিচেল মার্শের ঝোড়ো সেঞ্চুরিতে লখনউ সুপার জায়ান্টস (এলএসজি) বড় সংগ্রহ দাঁড় করালেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচে নাটকীয় জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা। বৃষ্টি-বিঘ্নিত লড়াইয়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে ৯ রানে হারিয়ে ছয় ম্যাচের হার-ধারার অবসান ঘটায় লখনউ।

একনা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে এলএসজি নির্ধারিত ১৯ ওভারে ৩ উইকেটে ২০৯ রান তোলে। জবাবে ১৯ ওভারে ৬ উইকেটে ২০৩ রানে থামে আরসিবি। সংশোধিত লক্ষ্য ছিল ২১৩ রান। ফলে ৯ রানের জয় পায় লখনউ সুপার জায়ান্টস। হার সত্ত্বেও আরসিবি পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখে, আর এলএসজি থাকে তালিকার তলানিতে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

লখনউয়ের ইনিংসের মূল নায়ক মিচেল মার্শ। তিনি ৫৬ বলে ১১১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের ছাপ। নিকোলাস পুরান ২৩ বলে ৩৮ রান করেন এবং অধিনায়ক ঋষভ পান্ত ১০ বলে অপরাজিত ৩২ রানের দ্রুত ইনিংস খেলেন। আরসিবির হয়ে ক্রুনাল পান্ড্য একটি উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোরে দেখা যায়, লখনউ সুপার জায়ান্টস ১৯ ওভারে ২০৯/৩ তোলে, আরসিবি ১৯ ওভারে ২০৩/৬ রান করে থামে। আরসিবির হয়ে রজত পতিদার ৩১ বলে ৬১ রান এবং টিম ডেভিড ১৭ বলে ৪০ রান করেন। লখনউয়ের প্রিন্স যাদব ৩ উইকেট নেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন মিচেল মার্শ। জশ হ্যাজেলউডকে দ্বিতীয় ওভারে টানা ছক্কা মেরে তিনি বুঝিয়ে দেন বড় ইনিংসের ইঙ্গিত। ওপেনিং সঙ্গী আরশিন কুলকার্নি কিছুটা সতর্ক শুরু করলেও মার্শ ছিলেন ছন্দে। চতুর্থ ওভারে ক্রুনাল পান্ড্যকে চার-ছক্কা মারার পর রাসিখ দার সালামকেও ছক্কায় উড়িয়ে দেন তিনি।

পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারে এলএসজি বিনা উইকেটে ৬৮ রান তুলে নেয়, যা চলতি মৌসুমে লখনউয়ে তাদের সর্বোচ্চ পাওয়ারপ্লে স্কোর। বৃষ্টির কারণে খেলা একাধিকবার বন্ধ হলেও মার্শের গতি কমেনি। তিনি ৪৯ বলে শতক পূর্ণ করেন, যা আইপিএলে তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।

বৃষ্টির বিরতির পরও এলএসজি আক্রমণ থামায়নি। মার্শের সঙ্গে পরে পুরান ও পান্তও দ্রুত রান তুলতে থাকেন। শেষদিকে ঋষভ পান্তের আগ্রাসী ব্যাটিং লখনউকে ২০০ রানের বেশি সংগ্রহে পৌঁছে দেয়।

জবাবে আরসিবির শুরুটা ছিল বিপর্যস্ত। প্রিন্স যাদব প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন। তিনি জ্যাকব বেথেলকে ফিরিয়ে দেন, এরপর বিরাট কোহলিকেও শূন্য রানে আউট করেন। শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বেঙ্গালুরু।

তবে রজত পতিদার দলের হাল ধরেন। তিনি দারুণ ব্যাটিং করে অর্ধশতক পূর্ণ করেন এবং ইনিংসকে এগিয়ে নেন। দেবদত্ত পাডিক্কলও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শট খেলেন। কিন্তু মাঝপথে উইকেট পতনের কারণে আরসিবি চাপে পড়ে যায়।

শেষদিকে টিম ডেভিড লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন। তিনি ১৭ বলে ৪০ রানের দ্রুত ইনিংস খেলেন এবং কিছু সময়ের জন্য ম্যাচে উত্তেজনা তৈরি করেন। কিন্তু দিগ্ভেশ রথির নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও শেষ ওভারের চাপ সামলে লখনউ জয় নিশ্চিত করে।

দিগ্ভেশ রথি বল হাতে ছিলেন নির্ভার ও কার্যকর। শেষদিকে তার স্নায়ুচাপহীন বোলিংই লখনউকে ম্যাচ জিতিয়ে দেয়। এই জয়ে লখনউ দীর্ঘ হার-ধারা কাটাতে সক্ষম হয়।

পরবর্তী ম্যাচে আরসিবি রায়পুরে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মুখোমুখি হবে ১০ মে। একই দিন বিকেলে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে খেলবে লখনউ সুপার জায়ান্টস।

0%
0%
0%
0%