Advertisement

সিডনি ম্যারাথনে ইসরায়েলি সেনার অংশগ্রহণ ঘিরে উত্তাল অস্ট্রেলিয়া বিক্ষোভ ও বিতর্কের ঝড়

সিডনি ম্যারাথনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা। মর্যাদাপূর্ণ এই দৌড় প্রতিযোগিতায় ইসরায়েলি সেনাসদস্যদের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে রোববার সিডনির রাস্তায় নেমে আসেন শত শত প্রতিবাদকারী। ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে এবং ঐতিহ্যবাহী কেফিয়া পরিহিত বিক্ষোভকারীরা অস্ট্রেলিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের মূল প্রশ্ন ছিল, ঠিক কী কারণে অস্ট্রেলিয়া সরকার ৪০ জন ইসরায়েলি সেনাকে ভিসা দিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যারাথনের পুরো পথজুড়ে বিক্ষোভকারীরা যুদ্ধাপরাধীদের নিষিদ্ধ করার দাবি জানান এবং অস্ট্রেলিয়ার সাথে ইসরায়েলের সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান। এই ইসরায়েলি প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মধ্যে গোলানি ব্রিগেড এবং সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ৮২০০-এর সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। জাতিসংঘ কমিশন অব ইনকোয়ারির তথ্যমতে, গোলানি ব্রিগেড ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে বিতর্কিত শাখাগুলোর একটি। আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে যে, এই দলের অন্তত একজন সদস্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন এবং ম্যারাথন শেষ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ম্যারাথনে অংশ নেওয়া রয় ওরিয়ন গোলানি ব্রিগেডের ১৩তম ব্যাটেলিয়নের ডেপুটি কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যারা গাজা এবং দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছিল। গোলানি ব্রিগেডের বিরুদ্ধে গত বছর গাজায় ১৫ জন প্যারামেডিক ও উদ্ধারকর্মীকে অ্যাম্বুশ করার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষের ভিসা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়ে মানবাধিকার সংস্থা এবং বোয়কট, ডাইভেস্ট, স্যাংশনস বা বিডিএস আন্দোলন তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গণহত্যা বা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকলে অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষের তা তদন্ত করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণ দেখিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ভিসা আবেদন বা স্ক্রিনিং নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, যেকোনো বিদেশি নাগরিকের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিচয়, স্বাস্থ্য, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো কঠোরভাবে যাচাই করা হয়।

উল্লেখ্য যে, মাত্র কয়েক মাস আগে এপ্রিলে গাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অস্ট্রেলিয়ান ত্রাণকর্মী জোমি ফ্রাঙ্কামসহ সাতজন নিহত হন। এই ঘটনার অপরাধীদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল কোনো ফৌজদারি তদন্ত না করার কয়েক দিনের মধ্যেই ইসরায়েলি সেনারা অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করেন। অস্ট্রেলিয়া প্যালেস্টাইন অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক এ ঘটনাকে চরম উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যা দিয়ে সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। সাধারণ দৌড় প্রতিযোগিতার আড়ালে এই ‘সাংস্কৃতিক বিনিময়’ নিয়ে মানবাধিকার কর্মীরা বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সম্পর্কিত- খেলাধুলা
0%
0%
0%
0%