Advertisement

টেনিসের অমরগর্বে রজার ফেদেরার ইন্টারন্যাশনাল হল অব ফেমে অভিষিক্ত

টেনিসের বরপুত্র রজার ফেদেরার নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পরতে পরতে যে আবেগ বুনেছিলেন, তা যেন পূর্ণতা পেল আন্তর্জাতিক টেনিস হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের নিউপোর্টে এক আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনে টেনিসের এই কিংবদন্তিকে বরণ করে নেওয়া হয়। কুড়িটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী এই সুইস তারকা যখন হল অব ফেমে নিজের নাম খোদাই করছিলেন, তখন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। তার মতে, খ্যাতি অর্জন কখনোই তার লক্ষ্য ছিল না; বরং টেনিসকে ভালোবেসে সেই ভালোবাসার মানুষদের সঙ্গে জীবন অতিবাহিত করাই ছিল তার পরম প্রাপ্তি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেরি ক্যারিলোর সঙ্গে শনিবার হল অব ফেমে অভিষিক্ত হন ফেদেরার। নিজের ক্যারিয়ারের স্মৃতির ঝাঁপি খুলে তিনি জানান, টেনিস শুধু জয়-পরাজয়ের খেলা নয়, বরং এটি নতুন কিছু সৃষ্টির একটি মাধ্যম। ক্যারিয়ারে মোট ১০৩টি এটিপি ট্যুর শিরোপা জেতা ফেদেরার বলেন, তিনি এখনো টেনিসের প্রতি তার ভালোবাসার চিঠি লিখে চলেছেন। যদিও খেলোয়াড় হিসেবে তার সময় শেষ হয়েছে, তবে টেনিস সবসময়ই তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে থাকবে। তার ক্যারিয়ারের এই অর্জনে সুইজারল্যান্ডের নাম যুক্ত হওয়া নিয়ে তিনি গর্ববোধ করেন।

বিজ্ঞাপন

সুইজারল্যান্ডের এই মহাতারকা আটবার উইম্বলডন, ছয়বার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, পাঁচবার ইউএস ওপেন এবং একবার ফ্রেঞ্চ ওপেনের মুকুট জিতেছেন। মোট ৩১০ সপ্তাহ বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ফেদেরার তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আন্দ্রে আগাসি, লেটন হিউইট, অ্যান্ডি রডিক, রাফায়েল নাদাল ও নোভাক জোকোভিচের মতো প্রজন্মের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। ৪৫ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি খেলোয়াড় হিসেবে অবসর নিলেও টেনিসের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতি তার বার্তা, তারা যেন খেলার মূল স্পিরিট ধরে রাখে এবং উদ্ভাবনী শক্তির মাধ্যমে এই খেলাকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

ফেদেরারের এই মাইলফলক অর্জনে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন নোভাক জোকোভিচের মতো টেনিস তারকারা। জোকোভিচ এক ভিডিও বার্তায় তাকে টেনিস এবং সামগ্রিকভাবে ক্রীড়াঙ্গনের এক মহান দূত হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগে নিউ ইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে ইউএস ওপেনের একটি প্রদর্শনী ম্যাচে অ্যান্ডি রডিকের মুখোমুখি হয়েছিলেন ফেদেরার। সেই ম্যাচে আরএফ লোগো সম্বলিত টুপি মাথায় হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে তিনি আবারো ফিরে যান ১৯৯৮ সালের সেই স্মৃতিতে, যখন তিনি প্রথমবার জুনিয়র হিসেবে এই শহরে পা রেখেছিলেন।

নিজের পরিবার, কোচ ও ডাক্তারদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন ফেদেরার। স্ত্রী মিরকার প্রশংসা করে তিনি জানান, টেনিসের বাইরের জীবনে একজন স্বামী, বাবা ও বন্ধু হিসেবেও তিনি নিজেকে সমৃদ্ধ মনে করেন। ফেদেরারের বিদায় মানেই টেনিসের সমাপ্তি নয়, বরং তার ভাষ্যমতে, এটি কোনো বিদায়বেলা নয়, বরং টেনিসের সাথে তার সম্পর্কের এক নিরন্তর যাত্রা।

সম্পর্কিত- খেলাধুলা
0%
0%
0%
0%