প্রতিপক্ষ শিবিরে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে অভিযুক্ত সাউদাম্পটন কোচ টন্ডা একার্টের বিরুদ্ধে এফএ-র আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন

প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অনুশীলনের ওপর গোপনে নজরদারি চালানোর অভিযোগে ফুটবলের দুনিয়ায় এক বড় ধরনের কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়লেন সাউদাম্পটনের প্রধান কোচ টন্ডা একার্ট। ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা এফএ গত বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে একার্টের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ এনেছে। মূলত গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নশিপ প্লে-অফ সেমিফাইনালে মিডলসব্রোর অনুশীলন সেশনে গোয়েন্দাগিরির দায়ে সাউদাম্পটনকে টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, যা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

বিজ্ঞাপন

তদন্তে উঠে এসেছে যে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। মিডলসব্রোর পাশাপাশি ইপসউইচ টাউন এবং অক্সফোর্ড ইউনাইটেডের মতো ক্লাবের অনুশীলনেও সাউদাম্পটন কর্তৃপক্ষ নজরদারি চালিয়েছিল। একটি স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিশন তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, এই পুরো বিষয়টি ছিল কোচ একার্টের পরিকল্পিত ও সুচিন্তিত এক নীলনকশা, যেখানে ক্লাবের তরুণ কর্মীদের চাপের মুখে এসব অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এই ঘটনার জেরে সাউদাম্পটন প্লে-অফ ফাইনাল থেকে ছিটকে যায় এবং তাদের ওপর ২০২৬-২৭ মৌসুমের জন্য ৪ পয়েন্ট কাটার শাস্তিও আরোপ করা হয়।

প্রিমিয়ার লিগে উত্তরণের সুযোগ হারানোর ফলে সাউদাম্পটনের প্রায় ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড বা প্রায় ২৬৭ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এফএ’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোচ একার্টের বিরুদ্ধে ই৩.১ ধারায় তিনটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে, যা মূলত ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সংঘটিত অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ইতিমধ্যেই একার্ট জুন মাসে প্রকাশ্যে এই নজরদারির দায়ভার স্বীকার করে নিয়েছেন। তবে ক্লাবের মালিক ড্রাগান সোলাক জানিয়েছেন, এই ঘটনার পরও তারা কোচের ওপর আস্থা রাখছেন এবং তাকে বরখাস্ত করার কোনো পরিকল্পনা নেই। সাউদাম্পটন কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে যে, তারা তদন্ত প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে। এদিকে আসন্ন ৮ আগস্ট কোলচেস্টারের বিপক্ষে লিগ কাপের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ এবং ১৬ আগস্ট ওয়াটফোর্ডের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচের প্রস্তুতির মধ্যেই এই আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়লেন কোচ একার্ট। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত এই অভিযোগের জবাব দেওয়ার সময় পেয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%