মলদোভার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত ভাসিলে তোফান

মলদোভা তার ইউরোপীয় ইউনিয়নের দিকে যাত্রাপথ অটুট রাখার লক্ষ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাসিলে তোফানকে নির্বাচিত করেছে। দেশটির পার্লামেন্টে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ৫৩ জন আইনপ্রণেতার সমর্থনে তিনি সরকার গঠনের অনুমোদন পান, যেখানে ২১ জন বিপক্ষে ভোট দেন এবং সমসংখ্যক সদস্য ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটিতে গত তিন সপ্তাহ ধরে চলা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল।

বিজ্ঞাপন

পেশায় অর্থ বিশ্লেষক ভাসিলে তোফান তার পূর্বসূরি আলেক্সান্দ্রু মুনতেনুর স্থলাভিষিক্ত হলেন, যিনি আট মাস দায়িত্ব পালনের পর কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেছিলেন। মূলত মুনতেনুর বিদায়ে পুরো মন্ত্রিসভা ভেঙে গেলে নতুন সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। যদিও তোফান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন, তবে প্রেসিডেন্ট মায়া সান্দু এবং তার দল ‘পার্টি অব অ্যাকশন অ্যান্ড সলিডারিটি’-র সরাসরি সমর্থন তাকে এই উচ্চপদে আসীন করেছে।

পার্লামেন্টে নিজের নতুন কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করে তোফান বলেন, তার সরকারের মূল লক্ষ্য হবে ‘ইউরোপীয় অর্থনীতি ও কার্যকর রাষ্ট্র’ গঠন। মলদোভার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড শক্ত করা, বাজেট ঘাটতি হ্রাস এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমেই তার সরকারের সফলতা বিচার করা উচিত। ইউরোপের অন্যতম দরিদ্র দেশ মলদোভার অর্থনীতি গত বছর ২.৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।

তোফানের রোডম্যাপ অনুযায়ী, চলতি বছরেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সদস্যপদ লাভের আলোচনা জোরদার করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি ২০২৮ সালের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি সম্পন্ন করে ২০৩০ সালের মধ্যে ব্লকের পূর্ণ সদস্য হিসেবে আত্মপ্রকাশের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেনের সঙ্গে মলদোভাও ইইউ’র প্রার্থী মর্যাদা লাভ করে এবং গত মাসে তাদের আনুষ্ঠানিক সদস্যপদ আলোচনার সূত্রপাত হয়।

বিজ্ঞাপন

মলদোভার রাজনৈতিক ইতিহাসে দশকের পর দশক ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থী এবং রুশপন্থী পক্ষগুলোর মধ্যে ক্ষমতার পালাবদল দেখা গেছে। রুশ প্রভাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগ সত্ত্বেও, দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ রোমানীয় ভাষাভাষী জনগণের মধ্যে ইউরোপের সঙ্গে একীভূত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রবল। তবে ইইউ’র পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করা একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রমের ওপর অনেকাংশেই নির্ভর করছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%