AdvertisementAdvertisement

বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম ছুঁল ২৩ লাখ ডলার

নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ঘিরে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে উন্মাদনা। একদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে লামিন ইয়ামালের নেতৃত্বাধীন তরুণ তুর্কি স্পেন। ফুটবল বিশ্বের এই মহাযজ্ঞের শেষ দৃশ্যটি দেখার জন্য দর্শক সারিতে জায়গা করে নেওয়া যেন এখন ধনকুবেরদের বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে। ফিফার অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে সব টিকিট নিঃশেষ হয়ে যাওয়ায় সেকেন্ডারি বাজারে টিকিটের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। ম্যাচ শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগে একটি টিকিটের দাম পৌঁছে গেছে প্রায় ২৩ লাখ ডলারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ক্রীড়া ইভেন্ট হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি টুর্নামেন্টের শুরুতে টিকিটের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে প্রবল সমালোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দর্শকদের আগ্রহ সব হিসেব-নিকেশ ওলটপালট করে দিয়েছে। গ্রুপ পর্বের ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি স্টেডিয়াম পূর্ণ ছিল হাউসফুল। ফিফার তথ্যানুযায়ী, প্রাথমিক পর্বে মোট আসনের ৯৯.৭ শতাংশই ছিল দর্শকপূর্ণ। টুর্নামেন্ট শুরুর দিকে গুয়াদালাজারা স্টেডিয়ামে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের ম্যাচে গ্যালারি ফাঁকা থাকলেও ৪৮ দলের এই বিশালাকার আয়োজনে শেষ পর্যন্ত মানুষের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিফার ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ বা চাহিদার ভিত্তিতে টিকিটের দাম পরিবর্তনের কৌশলটি দারুণভাবে কাজে দিয়েছে। ক্লিবল্যান্ড ক্যাভালিয়ার্সের সাবেক টিকিট বিশেষজ্ঞ স্কট ফ্রিডম্যানের ভাষ্যমতে, প্রতিটি ম্যাচেই দর্শকরা অত্যধিক মূল্য দিয়ে টিকিট কিনেছেন, যা ফিফার ব্যবসায়িক ঝুঁকিকে সফলতায় রূপ দিয়েছে। যদিও এই প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যাডাম এলমাচতুব মনে করেন, আকাশছোঁয়া দাম ও স্বচ্ছতার অভাব সাধারণ সমর্থকদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

টিকিট নিয়ে এই চরম অরাজকতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের শিথিল নীতিমালাও দায়ী। মেক্সিকোর মতো দেশে যেখানে রিসেল টিকিটের দাম নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাতে পারছেন। সিটগিক প্ল্যাটফর্মের তথ্যমতে, ফাইনালের টিকিটের গড় দাম প্রায় ১১ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৪ সালের সুপার বোলের চেয়েও ৮ শতাংশ বেশি।

সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ এক আভিজাত্যের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। মাঠের লড়াইয়ে মেসি তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে নামার অপেক্ষায় থাকলেও গ্যালারির চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। ফুটবলের বিশ্ব সংস্থা ফিফা এটিকে সবচেয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্বকাপ হিসেবে প্রচার করলেও প্রকৃত অর্থে সাধারণ অনেক সমর্থক ভিসা জটিলতা এবং টিকিটের অত্যধিক দামের কারণে এই উৎসব থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপের নির্বাহী পরিচালক রোনান ইভেনের মতে, এটি যেন শেষ পর্যন্ত কেবল বিত্তবানদের জন্যই একটি টুর্নামেন্ট হয়ে রইল।

0%
0%
0%
0%