AdvertisementAdvertisement

নারী অ্যাথলেটদের সম্মান রক্ষায় নতুন নির্দেশনা ইউরোপিয়ান অ্যাথলেটিকসের

নারী অ্যাথলেটদের ক্রীড়া নৈপুণ্যকে মূল্যায়নের পরিবর্তে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে যৌনতার দৃষ্টিতে উপস্থাপনের প্রবণতা রোধে কঠোর অবস্থানে গেছে ইউরোপিয়ান অ্যাথলেটিক্স এবং ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন। মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল এবং অস্বস্তিকর রিপ্লের মাধ্যমে অ্যাথলেটদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ‘রেইজিং দ্য বার’ শিরোনামে নতুন এক নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। অ্যাথলেটদের পক্ষ থেকে আসা নানা প্রতিক্রিয়ার পর এই উদ্যোগকে অ্যাথলেটিক্সের মর্যাদা রক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইউরোপিয়ান অ্যাথলেটিক্সের প্রেসিডেন্ট দোবরোমির কারামারিনভ জানিয়েছেন, এই নতুন নীতিমালা প্রবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো খেলাধুলায় নারীদের প্রতি ক্ষতিকর উপস্থাপনা পুরোপুরি বন্ধ করা। একই সঙ্গে সম্প্রচারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা এবং গল্প বলার শৈলী বজায় রাখাই ব্রডকাস্টারদের মূল দায়িত্ব হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে সম্প্রচারকদের অ্যাথলেটদের শরীরের নির্দিষ্ট অংশের ক্লোজ-আপ শট, নিচু অ্যাঙ্গেল থেকে ধারণকৃত দৃশ্য অথবা অপ্রয়োজনীয় স্লো-মোশন রিপ্লে পরিহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিশেষ করে হাই জাম্পের মতো ইভেন্টে নিচু অ্যাঙ্গেল থেকে ক্যামেরা শট নিলে অ্যাথলেটদের জন্য অস্বস্তিকর ও আপত্তিকর ছবি তৈরির ঝুঁকি থাকে, যা মাঠের প্রকৃত নৈপুণ্যকে ছাপিয়ে যায়। সার্বিয়ার সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন লং জাম্পার ইভানা স্পানোভিচ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, সম্প্রচারকদের উচিত অ্যারিয়াল ভিউ বা উদ্ভাবনী ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানো, যা অ্যাথলেটদের কৌশলগত দক্ষতা এবং নিখুঁত মুভমেন্টগুলো ফুটিয়ে তুলবে। তার মতে, এমন শট নির্বাচন করা প্রয়োজন যা খেলার টেকনিক্যাল দিকগুলোকে দর্শকদের কাছে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়নের স্পোর্টস বিভাগের নির্বাহী পরিচালক গ্লেন কিলানে সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাথলেটদের শরীরের ওপর ক্যামেরা ধরে রাখা বা অপ্রয়োজনীয় জুম-ইন শটগুলো কোনোভাবেই খেলার বর্ণনায় নতুন কিছু যোগ করে না। বরং এই ধরনের চিত্রায়ন দর্শকদের মনোযোগ মূল পারফরম্যান্স থেকে সরিয়ে নেয় এবং ক্ষতিকর স্টেরিওটাইপ বা কুসংস্কারকে প্রশ্রয় দেয়। তিনি আরও বলেন, অ্যাথলেটদের আবেগ বা উদযাপনের মুহূর্তগুলো যেন যথাযথ সম্মান বজায় রেখে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হয়।

এই নতুন নীতিমালা কেবল সীমাবদ্ধতার তালিকা নয়, বরং এটি সম্প্রচারকারী সংস্থা, ক্যামেরাম্যান এবং অ্যাথলেটদের মধ্যে একটি নতুন সেতুবন্ধন তৈরির আহ্বান। অ্যাথলেটদের ক্রীড়া নৈপুণ্যই যেন পর্দার প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে এবং বিভ্রান্তিকর কোনো ফুটেজ যেন তাদের পরিশ্রমকে ম্লান করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই এই কার্যক্রমের প্রধান লক্ষ্য। সব ব্রডকাস্টারের জন্য উন্মুক্ত এই নীতিমালা নারী অ্যাথলেটিক্সের কভারেজে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

0%
0%
0%
0%