ফিফার মসনদ টলমলে ব্যর্থ বাণিজ্যিক পরিকল্পনায় চাপের মুখে ইনফান্তিনো

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার অন্দরে এখন অস্থিরতার দাবানল। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তার পদ টিকিয়ে রাখার এক শ্বাসরুদ্ধকর সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক সত্তা বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা নস্যাৎ হওয়ার পর বুধবার মরক্কোর সালাতে ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসছেন তিনি। নিজের নেতৃত্বকে ফের সুসংহত করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।
গত সপ্তাহে ২১১টি সদস্য দেশের কাছে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির প্রস্তাব উত্থাপন করেন ইনফান্তিনো। ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যে এই প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ শেয়ার ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি কোম্পানির নাম এই পরিকল্পনায় জড়িয়ে পড়ায় বিতর্ক চরমে পৌঁছায়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফার ভেতরেই ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।
ইনফান্তিনোর এই ব্যর্থ চালের পর ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা তার নেতৃত্বের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, ইনফান্তিনো ফুটবলের আত্মাকে বিক্রির পাঁয়তারা করছেন। বিষয়টি মার্চ মাসে অনুষ্ঠেয় ফিফা কংগ্রেসের নির্বাচনে তার চতুর্থ মেয়াদে জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু ইউরোপীয় ফেডারেশন তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ফিফার অন্দরেও তৈরি হয়েছে গভীর বিভাজন। ফিফা মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রম এবং প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন ল্যামুরসহ প্রভাবশালী কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে এই পরিকল্পনাকে ‘একজন ব্যক্তির প্রকল্প’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
সংকট সামাল দিতে ইনফান্তিনো এখন মরক্কোর ওপর ভরসা রাখছেন। মরক্কো ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক এবং দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাকে জোরালো সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি সামলানো বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উয়েফা, কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের একাংশ যদি ফিফার কার্যক্রম অচল করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ইনফান্তিনোর পতন নিশ্চিত হতে পারে। এছাড়া ৪৩টি সদস্য দেশের লিখিত অনুরোধে একটি জরুরি কংগ্রেস ডাকার সুযোগও রয়েছে।
তবে ইনফান্তিনোর জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে কাতার, কুয়েত, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো, যারা এখনো তার প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেছে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বের ২১১তম র্যাঙ্কিংয়ে থাকা স্যান মারিনোর ভোটের মূল্য ব্রাজিলের সমান। আর এই সমীকরণের সুবিধা নিয়ে ছোট দেশগুলোর সমর্থন পাওয়ার আশায় মরিয়া ইনফান্তিনো। প্রতিটি দেশের জন্য ২ কোটি থেকে ৪ কোটি ডলার লভ্যাংশের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন।
এখন পর্যন্ত ইনফান্তিনোর বিপক্ষে কোনো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী সামনে আসেনি। জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স আলি বিন হুসেইন অবশ্য কঠোর ভাষায় ফিফার এই কর্মকাণ্ডকে ‘ব্ল্যাকমেল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সব মিলিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহ আন্তর্জাতিক ফুটবলের জন্য অত্যন্ত ঘটনাবহুল হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন নিউজিল্যান্ড ফুটবলের প্রধান অ্যান্ড্রু প্র্যাগনেল। ফিফার সিংহাসন বাঁচাতে ইনফান্তিনো কতটুকু সফল হন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
