ভিএআর বিতর্কে সেনেগালের স্বপ্নভঙ্গ নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম

বিশ্বকাপের ৩২ দলের পর্ব থেকে সেনেগালের বিদায়টা কোনো সাধারণ হার নয়, বরং এক চরম বিতর্কের জন্ম দেওয়া শ্বাসরুদ্ধকর নাটকীয়তায় মোড় নেওয়া ঘটনা। বুধবার বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানের পরাজয় বরণ করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ‘লায়ন্স অব তেরাংগা’ খ্যাত সেনেগালকে। ম্যাচটির শেষ মুহূর্তে ভিএআর বা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সিদ্ধান্তে পাওয়া পেনাল্টি নিয়ে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বে তুমুল শোরগোল।
ম্যাচ যখন ২-২ সমতায় ড্রয়ের দিকে এবং পেনাল্টি শ্যুটআউটের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল, ঠিক তখনই হন্ডুরান রেফারি সাইদ মার্তিনেজ ভিএআর দেখে বেলজিয়ামের অধিনায়ক ইউরি তিলেমানসকে ফাউল করার দায়ে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। সেনেগালের লামিন কামারার চ্যালেঞ্জে এই পেনাল্টি প্রদান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফুটবলবোদ্ধারা। বিশেষ করে ‘আর্কাইভো ভিএআর’ প্ল্যাটফর্মের দাবি, তিলেমানস নিজেই পা বাড়িয়ে কামারার সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি করেছেন এবং এটি কোনোভাবেই ভিএআর-এর হস্তক্ষেপযোগ্য স্পষ্ট ভুল ছিল না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘ডাকাতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন অসংখ্য সমর্থক। অনেক ফুটবল বিশ্লেষক ও সমর্থক সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, বেলজিয়ামকে সুবিধা দেওয়ার জন্যই এই বিতর্কিত পেনাল্টি দেওয়া হয়েছে। স্প্যানিশ সাংবাদিক মানোলো লামা এমনকি আফ্রিকান নেশনস কাপের পুরনো তিক্ত স্মৃতির সঙ্গে এই ঘটনার মিল খুঁজে পেয়েছেন। অনেকের মতে, আয়োজক দেশ বা শক্তিশালী দলের স্বার্থে যেভাবে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়, এটি তারই একটি নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।
এই পেনাল্টি থেকে গোল করে বেলজিয়ামের জয় নিশ্চিত করেন তিলেমানস। অথচ ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল সেনেগালের হাতে। দুই গোলের লিড নিয়ে তারা যখন শেষ ষোলোর পথে অনেকটা নিশ্চিতভাবেই এগিয়ে ছিল, তখনই সব হিসাব উল্টে যায়। শেষ পাঁচ মিনিটে রক্ষণভাগের ব্যর্থতায় দুই গোল খেয়ে বসে আফ্রিকার দলটি, যার ফলে স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের।
ম্যাচ শেষে সেনেগালের ডিফেন্ডার ক্রেপিন দিয়াট্টা আক্ষেপ করে বলেন, ফুটবলের ইতিহাসের পাতায় একটি অবিস্মরণীয় জয়ের খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থ হওয়ার গ্লানি তাদের বয়ে বেড়াতে হবে। একই সুর মিডফিল্ডার হাবিব দিয়ারার কণ্ঠেও। তিনি জানান, প্রথমার্ধে ভালো খেললেও শেষ মুহূর্তে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারার খেসারত দিতে হয়েছে তাদের। যদিও দলের খেলোয়াড়রা নিজেদের দায় নিচ্ছেন, কিন্তু মাঠের সেই বিতর্কিত ভিএআর সিদ্ধান্ত ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার টেবিলে বহু দিন বেঁচে থাকবে।