বিশ্বকাপের নকআউটে অস্ট্রিয়ার বাধা পেরোনোর মিশনে নামছে স্পেন

লস অ্যাঞ্জেলেসে আজ বৃহস্পতিবার হাইভোল্টেজ নকআউট ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও অস্ট্রিয়া। এই ম্যাচের জয়ী দল শেষ ষোলোর লড়াইয়ে লড়বে পর্তুগাল অথবা ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। শিরোপা জয়ের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও স্পেনকে তাদের সামর্থ্যের তুলনায় কিছুটা ধীরলয়ে এগোতে দেখা গেছে। কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ছন্দে ফেরার আভাস দেয় তারা, এরপর উরুগুয়ের বিপক্ষেও জয় তুলে নেয় স্প্যানিশরা।
স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, তার দল ধীরে ধীরে উন্নতির পথে রয়েছে এবং এখন টুর্নামেন্টের আসল লড়াই শুরু হয়েছে। দে লা ফুয়েন্তে এক সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, রেকর্ড ভাঙা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠাই তাদের লক্ষ্য। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে তারা অবিচল এবং সমর্থকদের আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা পূরণ করতে তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত।
অন্যদিকে, রালফ রাংনিকের অস্ট্রিয়া ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়া দুর্দান্ত ফুটবল খেলে মোট ৬টি গোল করেছে। তবে স্পেনের বিপক্ষে জয় পেতে হলে তাদের নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে হবে, কারণ প্রতিপক্ষ স্পেন গত বছরের মার্চ মাস থেকে টানা ৩৪টি ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে। রাংনিক স্বীকার করেছেন যে, স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে মাঠের প্রতিটি ইঞ্চি জায়গা বুঝে তাদের খেলতে হবে।
সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্পেনের তরুণ প্রতিভা লামিন ইয়ামাল। ইনজুরি থেকে ফিরে ইয়ামাল এখন পুরোপুরি ফিট, যার ওপর নজর থাকবে অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগের। রাংনিক পরিষ্কার জানিয়েছেন, ইয়ামালকে নিয়ন্ত্রণ করা তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। অস্ট্রিয়ার খেলোয়াড়রা মরিয়া হয়ে চেষ্টা করবেন ইয়ামালকে বল থেকে দূরে রাখতে, যাতে তিনি ড্রিবলিংয়ের মাধ্যমে কোনো সুযোগ তৈরি করতে না পারেন।
পরিসংখ্যান বলছে, স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ৭০ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে অস্ট্রিয়ার জয়ের সম্ভাবনা ১২ দশমিক ২ শতাংশ। অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ যাওয়ার সম্ভাবনা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। ঐতিহাসিকভাবেও স্পেন এগিয়ে, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তাদের শেষ ৫ ম্যাচে জয় ৪টিতে এবং ড্র ১টিতে। তবে ১৯৭৮ সালে বিশ্বকাপের মঞ্চে অস্ট্রিয়ার কাছে স্পেনের পরাজয়ের অতীত ইতিহাস তাদের সতর্ক থাকার বার্তাই দিচ্ছে।
স্পেন দলে ইনজুরির কারণে ইয়েরেমি পিনো এবং নিকো উইলিয়ামসকে পাচ্ছে না, এছাড়া ভিক্টর মুনোজের খেলা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। অন্যদিকে, অস্ট্রিয়া শিবির সম্পূর্ণ ইনজুরি ও নিষেধাজ্ঞামুক্ত। এখন দেখার বিষয়, লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে শেষ পর্যন্ত কার জয়গান হয় এবং পর্তুগাল বা ক্রোয়েশিয়ার পরবর্তী প্রতিপক্ষ হিসেবে কারা জায়গা করে নেয়।