কেনর জোড়া গোলে নাটকীয় জয় ইংল্যান্ডের শেষ ষোলো নিশ্চিত

অ্যাটলান্টার মাঠে এক শ্বাসরুদ্ধকর নাটকীয়তায় শেষ পর্যন্ত স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল ইংল্যান্ড। কাতার বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পথে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়েছেন হ্যারি কেইনরা। থমাস তুখেলের শিষ্যরা এই জয়ে যেমন টুর্নামেন্টে টিকে রইল, তেমনি পরবর্তী রাউন্ডে সহ-আয়োজক মেক্সিকোর মুখোমুখি হওয়ার মঞ্চও তৈরি করে ফেলেছে।
ম্যাচের শুরুটা ছিল ইংল্যান্ডের জন্য চরম দুঃস্বপ্নের মতো। ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে ম্যাচের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে টুর্নামেন্টের অন্যতম দাবিদার দলটি। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা কঙ্গোর বিপক্ষে এই অঘটন এড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে থ্রি লায়ন্সরা। রক্ষণভাগে জেদ স্পেন্সের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সিপেঙ্গা গোল করলে গ্যালারিতে থাকা হাজারো ইংলিশ সমর্থক স্তব্ধ হয়ে পড়েন। প্রথমার্ধে ইয়োয়ান উইসা ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করলে ইংল্যান্ড বড় বিপদ থেকে বেঁচে যায়।
টমাস তুখেলের দলের জন্য গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি ছিলেন চীনের প্রাচীরের মতো। প্রথমার্ধে জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনের একাধিক আক্রমণ তিনি দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন। বিরতির পর তুখেল কৌশলে পরিবর্তন এনে বুকায়ো সাকা, অ্যান্থনি গর্ডন এবং এবেরেচি এজেকে মাঠে নামান। এই সাহসী পরিবর্তনের সুফল মিলতে সময় লাগেনি। ম্যাচের ৭৫ মিনিটে গর্ডনের মাপা ক্রসে কেইন হেডের মাধ্যমে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান।
ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের মাত্র ৪ মিনিট বাকি থাকতে সেই গর্ডনের সহায়তায় আবারো জাদুকরী গোল উপহার দেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তার শক্তিশালী শট সরাসরি জালে জড়িয়ে গেলে উল্লাসে ফেটে পড়েন ইংলিশ ডাগআউট। এই গোলটি ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৮৪তম এবং এবারের বিশ্বকাপে নিজের পঞ্চম গোল। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে কেইনের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩-তে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তুখেল তার দলের অদম্য মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। কোচ জানান, কঠিন সময়ে ধৈর্য না হারিয়ে অবিচল থাকার পুরস্কারই তারা পেয়েছেন। হ্যারি কেইনও প্রতিপক্ষ কঙ্গো এবং গোলরক্ষক এমপাসির দারুণ লড়াইয়ের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। নকআউট পর্বের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে মেক্সিকোর মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে নামার জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত ইংল্যান্ড।