অস্ট্রিয়া জয় করে কিমি আন্তোনেল্লির ব্যবধান কমিয়ে শিরোপার লড়াই জমিয়ে তুললেন জর্জ রাসেল

অস্ট্রিয়ান গ্রাঁ প্রিতে দুর্দান্ত ফর্মের স্বাক্ষর রেখে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছেন মার্সিডিজের জর্জ রাসেল। স্পিলবার্গের শ্বাসরুদ্ধকর ট্র্যাকে পোল পজিশন থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত নিজের আধিপত্য বজায় রেখে মৌসুমে নিজের দ্বিতীয় এবং ক্যারিয়ারের সপ্তম জয়টি নিশ্চিত করেন এই ব্রিটিশ ড্রাইভার। এই জয়ে মার্সিডিজের অপর ড্রাইভার কিমি আন্তোনেলি ও রাসেলের মধ্যকার পয়েন্ট ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে ৪০-এ। রেড বুলের ঘরের মাঠে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় শুরুটা খুব একটা ভালো না হলেও দুর্দান্ত লড়াই করে দ্বিতীয় স্থানে থেকে রেস শেষ করেছেন ম্যাক্স ভারস্ট্যাপেন। বিজয়ী রাসেলের চেয়ে মাত্র ১.৬ সেকেন্ড পিছিয়ে ছিলেন ডাচ তারকা ভারস্ট্যাপেন।
শ্বাসরুদ্ধকর এই লড়াইয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন কিমি আন্তোনেলি। শেষ ল্যাপ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাওয়া এই রেসে বিজয়ীর চেয়ে মাত্র ০.৩ সেকেন্ড পেছনে থেকে ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করেন তিনি। এখন পর্যন্ত আটটি রাউন্ডের মধ্যে সাতটিই নিজেদের করে নিয়েছে মার্সিডিজ। ড্রাইভার্স চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় ১৭১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন আন্তোনেলি, যেখানে ১৩১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন জর্জ রাসেল। অন্যদিকে, এদিন পঞ্চম স্থান অর্জনকারী লুইস হ্যামিল্টন ১২৫ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে নেমে গেছেন। কনস্ট্রাক্টরস স্ট্যান্ডিংয়েও মার্সিডিজ ৩০২ পয়েন্ট নিয়ে অনেকখানি এগিয়ে রয়েছে, যেখানে ফেরারি ২০৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে।
রেস শেষে উচ্ছ্বসিত রাসেল বলেন, পোডিয়ামের শীর্ষে ফিরতে পারাটা অবিশ্বাস্য এক অনুভূতি। গত অস্ট্রেলিয়ান গ্রাঁ প্রির পর এটি তার দ্বিতীয় জয়। তবে এই জয়টি পাওয়ার পথে অন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয়েছে তাকে। প্রচণ্ড গরমের কারণে রেসটিকে ‘হিট হ্যাজার্ড’ বা তাপজনিত ঝুঁকি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যেই রাসেলের গাড়ির পানীয় সরবরাহ ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়ায় পুরো রেস তাকে চরম তৃষ্ণার মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়েছে। রেসের সমাপ্তি রেখায় পৌঁছানোর পর রেডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, এমন চমৎকার একটি রেসে পানির ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়াটা বেশ কষ্টদায়ক ছিল, তবে আমি কিছুটা তৃষ্ণার্ত হলেও জয়ের আনন্দেই তা ভুলে গেছি।
প্রতিযোগিতার অন্যান্য ড্রাইভারদের মধ্যে চতুর্থ হয়েছেন ম্যাকলারেনের অস্কার পিয়াসত্রি এবং ষষ্ঠ স্থানে ছিলেন রেড বুলের আইজ্যাক হাজার। গত বছরের বিজয়ী লেন্ডো নরিস এবার সপ্তম স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। এছাড়া ফেরারি তারকা শার্ল লেক্লেয়ার অষ্টম এবং রেসিং বুলসের লিয়াম লসন ও আরভিদ লিন্ডব্লাড তালিকার যথাক্রমে নবম ও দশম স্থান অর্জন করেছেন। আগামী সপ্তাহেই সিলভারস্টোনে নিজের ঘরের মাঠের ব্রিটিশ গ্রাঁ প্রিতে অংশ নিতে যাচ্ছেন রাসেল। অস্ট্রিয়ার এই জয়ের আত্মবিশ্বাস তাকে সামনের লড়াইয়ে বাড়তি প্রেরণা জোগাবে বলেই মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। প্রতিটা ল্যাপে নিজের সীমানা ছাড়িয়ে লড়াই করতে হয়েছে জানিয়ে রাসেল বলেন, কিমি পুরো মৌসুম জুড়েই অবিশ্বাস্য গতিতে গাড়ি চালিয়েছেন, তাই টাইমিং বোর্ডের দিকে প্রতি মুহূর্তেই নজর রাখতে হয়েছিল।