ফুটবল মহাযজ্ঞের অপেক্ষায় বিশ্ব তারকাদের নিয়ে শুরু হচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ

বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞের দামামা বেজে উঠেছে। আগামী ১১ জুন, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। বর্তমান ও ভবিষ্যতের তারকাদের মিলনমেলায় মাঠ মাতাতে প্রস্তুত লিওনেল মেসি থেকে শুরু করে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে আর তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল। বৈশ্বিক এই লড়াইয়ে মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে ফুটবল বিশ্বের স্নায়ুচাপ এখন চরমে।
কাতার বিশ্বকাপে আজন্ম লালিত স্বপ্নপূরণের পর ৩৮ বছর বয়সী লিওনেল মেসি ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে পা রাখতে যাচ্ছেন। আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতানোর মিশনে তার ভূমিকা ঠিক কতটা হবে, তা নিয়ে কৌতূহল থাকলেও আলবিসেলেস্তেদের হৃদপিণ্ড হিসেবে তিনিই থাকছেন মধ্যমণি। অন্যদিকে, স্পেনের ইউরো ২০২৪ জয়ী ১৮ বছর বয়সী বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামালের জন্য এটিই প্রথম বিশ্বকাপ। মাঠে তার অসামান্য দক্ষতা ও পরিপক্কতা তাকে গোল্ডেন বুট জয়ের অন্যতম দাবিদার করে তুলেছে।
গত আসরে হ্যাটট্রিক করেও শিরোপার স্বাদ না পাওয়া কিলিয়ান এমবাপ্পে এবার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামছেন। ফ্রান্সের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় অলিভিয়ে জিরুদের ৫৭ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে তার প্রয়োজন মাত্র ১টি গোল। ২৭ বছর বয়সেই এই রেকর্ড গড়ার পথে থাকা এমবাপ্পের লক্ষ্য এখন শুধুই শিরোপা। তার সঙ্গে সমান তালে আলোচনায় রয়েছেন নরওয়ের ‘গোল মেশিন’ এরলিং হালান্ড। মাত্র ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৫০ গোল করার অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চ কাঁপাতে প্রস্তুত।
পর্তুগালের জার্সি গায়ে ৪১ বছর বয়সে নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কোচ রবার্তো মার্তিনেজের অধীনে নিজের সেরা ছন্দ খুঁজে পাওয়া রোনালদোর চোখ এখন প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপার ওপর। এদিকে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন ফর্মের তুঙ্গে থেকে দলের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেবেন। ২০১৮ সালে গোল্ডেন বুট জেতা কেন এবার ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দ্বিতীয়বার এই সম্মান অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছেন।
ব্রাজিল তাদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের মিশনে ভিনিসিউস জুনিয়রের ওপর বাজি ধরছে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পাওয়া ভিনিসিউস এখন সেলেসাওদের মূল ভরসা। সেই সঙ্গে গাম্বিয়ার গোলদাতা সেমেনিয়ো এবং তুরস্কের উদীয়মান তারকা আর্দা গুলেরের দিকেও তাকিয়ে থাকবে বিশ্ব। শেষবারের মতো মিশরের হয়ে বিশ্বকাপে দ্যুতি ছড়াতে প্রস্তুত মোহাম্মদ সালাহ। ইনজুরি কাটিয়ে নিজের শেষ বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অসমাপ্ত কাজ শেষ করাই তার একমাত্র লক্ষ্য। উত্তর আমেরিকার মাঠে বল গড়ানোর অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্বের চোখ এখন বিশ্বসেরা এই তারকাদের দিকে।