AdvertisementAdvertisement

বিপর্যয় কাটিয়ে বিশ্ব জয়ের মিশনে নাগেলসমানের নতুন জার্মানি

ফুটবল বিশ্বের পরাশক্তি জার্মানি টানা দুটি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার গ্লানি মুছে আবারও বিশ্বমঞ্চে রাজত্ব করতে প্রস্তুত। জুলিয়ান নাগেলসমানের অধীনে নতুন করে ছন্দে ফেরা চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এবার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে শিরোপা জয়ের। ১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালে বিশ্বজয়ের স্বাদ পাওয়া দলটি এবার যেন এক নতুন সংকল্প নিয়ে মাঠে নামছে। সবশেষ দুটি বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের কাছে পরাজিত হয়ে যে হতাশা তৈরি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি চান না কোনো জার্মান সমর্থক।

নাগেলসমানের কৌশলী ফুটবলে ভর করে জার্মানি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দারুণ আধিপত্য দেখিয়েছে, যেখানে ছয় ম্যাচের মধ্যে পাঁচটি জয় তুলে নিয়েছে তারা। তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার মিশেলে গড়া এই স্কোয়াডটি এখন অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ। দলে যেমন জামাল মুসিয়ালা ও ফ্লোরিয়ান ভিরৎজের মতো প্রতিভাবান তরুণ তুর্কি রয়েছেন, তেমনি জশুয়া কিমিখ ও আন্তোনিও রুডিগারের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা দলের রক্ষণভাগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিশেষ করে গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারের আন্তর্জাতিক অবসর ভেঙে দলে ফেরার সিদ্ধান্তটি ফুটবল বিশ্বে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষকই হতে যাচ্ছেন দলের ভরসা, যাকে কোচ নাগেলসমান দলের অপরিহার্য অংশ হিসেবে দেখছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

জার্মানির আক্রমণভাগের মূল ভরসা জামাল মুসিয়ালা এবং ফ্লোরিয়ান ভিরৎজ। গত ইউরো ২০২৪-এ দুর্দান্ত পারফর্ম করা মুসিয়ালা ইনজুরির কারণে কিছুটা ছন্দহীন থাকলেও, তার জাদুকরী ড্রিবলিং যে কোনো রক্ষণভাগকে তছনছ করে দিতে সক্ষম। অন্যদিকে লিভারপুলের হয়ে খেলা ভিরৎজ প্রিমিয়ার লিগের কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে আবারও তার সেরা ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। তরুণ তুর্কি লেনার্ট কার্লও এবার বড় মঞ্চে নিজের সামর্থ্যের জানান দিতে মুখিয়ে আছেন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে গোল করা এই ১৮ বছর বয়সী তারকাকে অনেকেই লিয়োনেল মেসির সঙ্গে তুলনা করছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দলটির নেতৃত্বভার থাকছে জশুয়া কিমিখের কাঁধেই। মিডফিল্ডে লিওন গোরেটজকা এবং আলেকসান্ডার পাভলোভিচের জুটি রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে। তবে স্ট্রাইকার পজিশন নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে, যেখানে কাই হাভার্টজ অথবা নিক ওলটেমেডেকে মূল দায়িত্ব সামলাতে দেখা যেতে পারে। কোচ নাগেলসমান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই তারা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাচ্ছেন।

গ্রুপ ই-তে জার্মানিকে খুব একটা কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে না বলেই ধারণা ফুটবল বিশেষজ্ঞদের। আগামী ১৪ জুন কুরাকাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ মিশন। এরপর ২০ জুন আইভরি কোস্ট এবং ২৫ জুন ইকুয়েডরের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। যদিও আইভরি কোস্ট এবং ইকুয়েডর শারীরিকভাবে শক্ত প্রতিপক্ষ, তবুও জার্মানির বর্তমান ফর্ম এবং আত্মবিশ্বাস তাদের নকআউট পর্বে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জার্মানি ফুটবল ইতিহাসের সেই চিরচেনা রূপ—যেখানে শেষ হাসিটা হাসিটা প্রায়ই তাদের থাকে—সেই সাফল্যের ধারা এবার নতুন করে ফিরে পেতে মরিয়া নাগেলসমানের শিষ্যরা।

0%
0%
0%
0%