AdvertisementAdvertisement

উত্তরাঞ্চলকে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের নতুন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা অর্থ উপদেষ্টার

রাজশাহীসহ পুরো উত্তরাঞ্চলকে দেশের নতুন শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে ব্যাপক নীতিগত সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর গতকাল রাজশাহীতে এক সম্মেলনে এ কথা জানান। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং সুইসকন্ট্যাক্ট আয়োজিত এই কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়ক আঞ্চলিক সম্মেলনে তিনি বলেন, বিনিয়োগের পথে থাকা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নিয়ন্ত্রণমূলক বাধাগুলো দূর করে একটি বিনিয়োগবান্ধব ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

উপদেষ্টা তিতুমীর জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১২৩ লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকার অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সরকার কাজ করছে। এই লক্ষ্য অর্জনে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরিতে এবারের বাজেটে পাঁচ বছরের করকাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে। ব্যবসার পরিবেশ সহজীকরণের অংশ হিসেবে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হচ্ছে, যাতে উদ্যোক্তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কারখানা চালুর সব ধাপ অনলাইনে সম্পন্ন করতে পারেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার সংস্কারের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে সরকার। উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে ৪৯ হাজার কোটি টাকার পুনঃ অর্থায়ন কর্মসূচি চলমান রয়েছে, যার বাইরেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা এবং কৃষি হাব তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে তিন হাজার কোটি টাকা বিশেষভাবে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে কেবল কৃষিপণ্য উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ না থেকে আলু, ভুট্টা, আম ও দুগ্ধজাত পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের মতো উচ্চমূল্যের খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

উত্তরাঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন উপদেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষিপণ্য দ্রুত বন্দরগুলোতে পৌঁছাতে রেলপথের সীমাবদ্ধতা দূর করে ডুয়াল গেজ লাইন নির্মাণ এবং পঞ্চগড় থেকে বন্দর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার কারিগরি বাণিজ্য বাধা কমানো এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মতো বিষয়গুলোতে জোর দিচ্ছে। সরকারের কাজ ব্যবসা করা নয়, বরং উদ্যোক্তাদের জন্য পথ তৈরি করে দেওয়া। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, দীর্ঘদিনের অবহেলিত অঞ্চলগুলোকে মূলধারার উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করতে সরকার অঞ্চলভিত্তিক বিনিয়োগ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করছে এবং এখন স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই অর্থনৈতিক রূপান্তর সম্পন্ন করতে হবে।

0%
0%
0%
0%