AdvertisementAdvertisement

পেপ গার্দিওলা: স্যার অ্যালেক্সের পাশে দাঁড়ানোর লড়াই

ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ১০ বছরের দীর্ঘ সম্পর্ক ছিন্ন করে পেপ গার্দিওলা ইংলিশ ফুটবলে বিপ্লব ঘটিয়ে বিদায় নিচ্ছেন। কিন্তু তার এই দশকে অর্জিত সাফল্য এ দেশের ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তি কোচদের তুলনায় কতটা শক্তিশালী?

এ প্রশ্ন এখন ফুটবল বিশ্বে। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন, বব প্যাসলি, ব্রায়ান ক্লফের মতো কিংবদন্তিদের পাশে গার্দিওলার অর্জনগুলো দাঁড়িয়ে আছে নতুন এক মাপে। গার্দিওলা বরাবরই ঘরোয়া লিগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন, আর সেই সূত্রেই সিটিকে তিনি শিখরে নিয়ে গেছেন। তার জাদুকরী ছোঁয়ায় ম্যানচেস্টার সিটি ৬ বার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছে, যা ১০ মৌসুমে ৬০ শতাংশ সাফল্যের হার। সবচেয়ে বড় কথা, টানা চারবার লিগ জয়ের নজিরও স্থাপন করেছে তারা, যা ইংরেজি ফুটবলে অভূতপূর্ব। এই ৬টি শিরোপার ৫টিই এসেছে গত ৭ বছরে। মাত্র দুবার তিনি লিগে প্রথম দুইয়ের বাইরে ছিলেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

আধুনিক কোচদের মধ্যে লিগ শিরোপা জেতার হিসেবে পেপ গার্দিওলার এই সাফল্যের হার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তার আগে আছেন বব প্যাসলি, যিনি লিভারপুলের কোচ হিসেবে ৬৭ শতাংশ শিরোপা জিতেছেন। ১৯৭৪ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ৯ বছরে প্যাসলি লিভারপুলকে ৬টি লিগ শিরোপা জিতিয়েছিলেন, মাত্র একবার তার দল শীর্ষ দুইয়ের বাইরে ছিল।

স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে এনে দিয়েছেন ১৩টি লিগ শিরোপা। তবে তিনি কাজ শুরু করেছিলেন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে, যেখানে ক্লাবটি দীর্ঘদিন ধরে শিরোপা খরা পার করছিল। ফার্গুসনের প্রথম লিগ শিরোপা জেতার (১৯৯৩) পর থেকে অবসর নেওয়া পর্যন্ত তার দলের শিরোপা জয়ের হার ছিল ৬২ শতাংশ, যা গার্দিওলার চেয়ে সামান্য বেশি হলেও প্যাসলির চেয়ে কম।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ম্যানচেস্টার সিটির আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং বিপুল অর্থের জোগান সত্ত্বেও, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গার্দিওলার পারফরম্যান্স কিছুটা হতাশাজনক – যা তিনি নিজেও স্বীকার করেন। তার অধীনে সিটি একবার শিরোপা জিতেছে (২০২৩), একবার ফাইনাল খেলেছে (২০২১) এবং মাত্র একবার সেমিফাইনাল খেলেছে (২০২২)। ইউরোপের অন্যতম সেরা দল হওয়া সত্ত্বেও এই অর্জন অনেকের কাছেই প্রত্যাশার চেয়ে কম। অবশ্য, বার্সেলোনার হয়ে তার দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপার কথা ভুলে গেলে চলবে না।

স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়েছেন, তবে দলটির ঘরোয়া আধিপত্যের কথা বিবেচনা করলে এটিও কিছুটা কম মনে হতে পারে। ব্রিটিশ কোচদের মধ্যে ব্রায়ান ক্লফ এবং বব প্যাসলির রেকর্ড সবচেয়ে ঈর্ষণীয়। ব্রায়ান ক্লফ নটিংহ্যাম ফরেস্টকে টানা দুবার ইউরোপিয়ান কাপ (১৯৭৯, ১৯৮০) জিতিয়েছেন, যা এক অসামান্য কীর্তি। আর বব প্যাসলি তো মাত্র পাঁচ বছরে তিনবার (১৯৭৭, ১৯৭৮, ১৯৮১) এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট জিতেছিলেন।

সব মিলিয়ে, ম্যানচেস্টার সিটিতে ১০ বছরে ১৭টি প্রধান শিরোপা জিতে গার্দিওলা ইংলিশ ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের তালিকায় স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের পরেই নিজের স্থান করে নিয়েছেন। ফার্গুসন ২৮টি শিরোপা জিতেছেন, তবে তিনি গার্দিওলার চেয়ে ১৬ বছর বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন। এরপর আছেন বব প্যাসলি (১৪টি শিরোপা), আর্সেন ওয়েঙ্গার (১০টি, যার মধ্যে রেকর্ড ৭টি এফএ কাপ), ব্রায়ান ক্লফ (৯টি) এবং স্যার ম্যাট বাসবি (৮টি)।

গার্দিওলার অধীনে ম্যানচেস্টার সিটি ইংলিশ শীর্ষ লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জনের দুটি রেকর্ড গড়েছে – ২০১৭-১৮ মৌসুমে ১০০ পয়েন্ট এবং ২০১৮-১৯ মৌসুমে ৯৮ পয়েন্ট। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাত মৌসুমে সিটি চারবার ৯০-এর বেশি পয়েন্ট অর্জন করেছে। এক্ষেত্রে তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল লিভারপুল। ইয়ুর্গেন ক্লপের অধীনে লিভারপুল ২০১৯-২০ মৌসুমে ৯৯ পয়েন্ট অর্জন করে সিটির টানা জয়ের ধারা ভেঙেছিল এবং ২০১৮-১৯ মৌসুমে ৯৭ পয়েন্ট নিয়ে সিটিকে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত লড়াইয়ে রেখেছিল।

একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গার্দিওলা তার সময়ে বহু রেকর্ড গড়েছেন। ইংরেজি ফুটবলের প্রায় ১৪০ বছরের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা চারবার লিগ শিরোপা জয়, প্রথম দল হিসেবে এক মৌসুমে ১০০ পয়েন্ট অর্জন (২০১৭-১৮), এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ১০৬ গোল (২০১৭-১৮) এবং একই মৌসুমে লিগ, এফএ কাপ ও লিগ কাপ জয় (২০১৮-১৯) – এসবই গার্দিওলার অধীনে অর্জিত। তিনি স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের মতো প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রেবল জয় (১৯৯৯ সালে ইউনাইটেড, ২০২৩ সালে সিটি) এবং দ্রুততম সময়ে লিগ শিরোপা নিশ্চিত করার (২০০১ সালে ইউনাইটেড, ২০১৮ সালে সিটি) রেকর্ডও স্পর্শ করেছেন। তবে আর্সেন ওয়েঙ্গারের অপরাজিত লিগ মৌসুমের (২০০৪ সালে আর্সেনাল) রেকর্ড তিনি ছুঁতে পারেননি।

0%
0%
0%
0%