iQOO Z9s
General & Launch
Network
Body
Display
Platform
Memory
Camera
Sound
Connectivity
Battery
Features
- Premium design
- Great battery life
- 120Hz AMOLED display
- No NFC
- No microSD slot
- No Ultrawide lens
বিস্তারিত
iQOO Z9s market price in Bangladesh is BDT 27,000 to BDT 34,000. iQOO Z9s স্মার্টফোনটি বর্তমান সময়ের মিড-রেঞ্জ মার্কেটে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং আকর্ষণীয় ডিভাইস হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যারা পারফরম্যান্সের সাথে সাথে প্রিমিয়াম ডিজাইনের সমন্বয় খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার পছন্দ হতে পারে। মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৭৩০০ চিপসেট এবং একটি প্রাণবন্ত অ্যামোলেড ডিসপ্লের সমন্বয়ে ফোনটি দৈনন্দিন মাল্টিটাস্কিং থেকে শুরু করে গেমিং—সব ক্ষেত্রেই বেশ ভালো দক্ষতা প্রদর্শন করে। বাংলাদেশি বাজারে অফিসিয়ালি না এলেও, আনঅফিসিয়াল মার্কেটে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আজকের এই বিস্তারিত রিভিউয়ে আমরা এই ফোনের প্রতিটি দিক নিয়ে আলোচনা করব, যা আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।
📦 iQOO Z9s Memory (RAM & Storage)
স্মার্টফোনটিতে মেমরির ক্ষেত্রে একাধিক বিকল্প রয়েছে যা ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী বেছে নেওয়া যায়। এটি ৮ জিবি র্যামের সাথে ১২৮ জিবি বা ২৫৬ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ অপশনে পাওয়া যায়। এছাড়া যারা আরও বেশি মাল্টিটাস্কিং করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য ১২ জিবি র্যামের একটি ভ্যারিয়েন্টও বাজারে রয়েছে। দুঃখজনক বিষয় হলো, এতে কোনো ডেডিকেটেড মেমরি কার্ড স্লট নেই, তাই বাড়তি স্টোরেজের জন্য আপনাকে ক্লাউড স্টোরেজ বা ইন্টারনাল স্টোরেজের উপরই নির্ভর করতে হবে। তবে এর ইউএফএস ২.২ প্রযুক্তির স্টোরেজ বেশ দ্রুতগতির হওয়ায় অ্যাপ লোডিং বা ফাইল ট্রান্সফারে তেমন কোনো ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয় না।
🌍 iQOO Z9s এর বাংলাদেশসহ ১৫টি দেশের বাজারমূল্য
iQOO Z9s এর আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য বিভিন্ন দেশের ট্যাক্স এবং কারেন্সি রেটের ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হয়। বাংলাদেশে এর আনঅফিসিয়াল মূল্য সাধারণত ২৭,০০০ থেকে ৩৪,০০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে। ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্ক এবং মিশরের মতো দেশগুলোতে এর গড় মূল্য ২৩,০০০ থেকে ২৮,০০০ টাকার সমতুল্য হয়ে থাকে। তবে মনে রাখবেন, আমদানিকারক এবং খুচরা বিক্রেতাভেদে এই মূল্যে কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।
🖥️ iQOO Z9s Display
iQOO Z9s এর ডিসপ্লে এই ফোনের অন্যতম বড় আকর্ষণ। ৬.৭৭ ইঞ্চির এই অ্যামোলেড প্যানেলটিতে ১ বিলিয়ন কালার সাপোর্ট রয়েছে, যা কন্টেন্ট দেখার অভিজ্ঞতাকে অসাধারণ করে তোলে। ১৮০০ নিটস পিক ব্রাইটনেস থাকার কারণে তীব্র সূর্যের আলোতেও ফোনের ডিসপ্লে বেশ পরিষ্কার দেখা যায়। ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট থাকায় স্ক্রলিং অত্যন্ত মসৃণ অনুভূত হয়। এছাড়া কার্ভড ডিজাইনের কারণে ফোনটি হাতে ধরলে বেশ প্রিমিয়াম লাগে এবং বডি-টু-স্ক্রিন রেশিও ৯০.৩ শতাংশ হওয়ায় ভিডিও দেখার সময় এটি একটি দারুণ ইমার্সিভ অভিজ্ঞতা দেয়।
📸 iQOO Z9s Cameras
ফটোগ্রাফির কথা বললে, iQOO Z9s এ রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের সনি আইএমএক্স৮৮২ সেন্সর। ওআইএস (OIS) সাপোর্ট থাকায় ছবির শার্পনেস এবং ভিডিও স্ট্যাবিলিটি বেশ ভালো। তবে এতে কোনো আল্ট্রাওয়াইড লেন্স না থাকাটা কিছুটা হতাশাজনক। সাথে একটি ২ মেগাপিক্সেল ডেপথ সেন্সর দেওয়া হয়েছে যা পোর্ট্রেট শটে সাহায্য করে। সামনের ১৬ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার মতো যথেষ্ট ভালো ছবি তুলতে সক্ষম। ৪কে ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা থাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্যও এটি ভালো অপশন হতে পারে।
⚙️ iQOO Z9s Hardware & Software
হার্ডওয়্যারের প্রাণ হিসেবে এতে ব্যবহৃত হয়েছে মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৭৩০০ চিপসেট, যা ৪ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি। এটি বেশ এনার্জি এফিশিয়েন্ট এবং গেমিংয়ে ভালো পারফরম্যান্স দেয়। সফটওয়্যারের দিক থেকে এতে রয়েছে অ্যান্ড্রয়েড ১৪ ভিত্তিক ফানটাচ ওএস ১৪। এই ইউজার ইন্টারফেসটি বেশ কাস্টমাইজেবল, তবে এতে কিছু প্রি-ইনস্টল করা অ্যাপ বা ব্লটওয়্যার থাকতে পারে যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের বিরক্ত করতে পারে। কোম্পানিটি ২ বছরের মেজর অ্যান্ড্রয়েড আপডেট প্রদানের নিশ্চয়তা দিয়েছে, যা এই ফোনের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।
🔋 iQOO Z9s Battery
ব্যাটারির পারফরম্যান্সে iQOO Z9s সত্যিই প্রশংসনীয়। ৫,৫০০ এমএএইচ এর বিশাল ব্যাটারি সাধারণ ব্যবহারে অনায়াসে সারাদিন চলে যায়। বক্সে ৪৪ ওয়াট ফাস্ট চার্জার দেওয়া হয়েছে, যা খুব দ্রুত চার্জ না করলেও মোটামুটি গ্রহণযোগ্য সময়ের মধ্যে ফোনটি চার্জ করে দেয়। এছাড়া এতে ৭.৫ ওয়াটের রিভার্স ওয়্যারড চার্জিং সুবিধা রয়েছে, যা জরুরি প্রয়োজনে অন্য ডিভাইস চার্জ দিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
🧩 iQOO Z9s Design
ফোনের ডিজাইন প্রিমিয়াম এবং স্লিম। ৭.৪৯ মিলিমিটার পুরুত্বের এই ফোনটি হাতে ধরলে বেশ হালকা অনুভূত হয়, যার ওজন মাত্র ১৮০ গ্রাম। গ্লসি ব্যাক প্যানেলটি দেখতে খুব সুন্দর হলেও এতে আঙুলের ছাপ খুব দ্রুত পড়ে, তাই কভার ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আইপি৬৪ রেটিং থাকায় এটি ধুলো এবং পানির ছিটা থেকে সুরক্ষিত থাকে।
🌐 iQOO Z9s Network & Connectivity
এটি একটি ৫জি সমর্থিত স্মার্টফোন, যা ভবিষ্যতের নেটওয়ার্ক চাহিদাকে মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। ডুয়াল সিম সুবিধাসহ এতে রয়েছে ওয়াইফাই ৬, ব্লুটুথ ৫.৪ এবং জিপিএস এর উন্নত ভার্সন। তবে এতে এনএফসি (NFC) সেন্সরটি নেই, যা অনেক ব্যবহারকারীর জন্য প্রয়োজনীয় হতে পারে। টাইপ-সি ২.০ পোর্ট দেওয়া হয়েছে ডেটা ট্রান্সফার এবং চার্জিংয়ের জন্য।
🔐 iQOO Z9s Sensors & Security
নিরাপত্তার জন্য এতে রয়েছে ইন-ডিসপ্লে অপটিক্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, যা বেশ দ্রুত এবং নির্ভুল কাজ করে। এছাড়া অ্যাক্সিলেরোমিটার, জাইরোস্কোপ, প্রক্সিমিটি, কম্পাস এবং অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট সেন্সর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ফোনের স্মার্ট ফিচারগুলোকে কার্যকর করে তোলে।
🎧 iQOO Z9s Multimedia
মিনিমিডিয়া অভিজ্ঞতার জন্য ফোনটিতে রয়েছে স্টেরিও স্পিকার সেটআপ, যা বেশ ভালো সাউন্ড আউটপুট দেয়। মুভি দেখা বা গেম খেলার সময় সাউন্ড কোয়ালিটি বেশ স্পষ্ট এবং ভারসাম্যপূর্ণ। তবে এতে কোনো ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক নেই, তাই মিউজিক শোনার জন্য আপনাকে ব্লুটুথ ইয়ারফোন অথবা টাইপ-সি অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করতে হবে।
🧠 iQOO Z9s Platform (OS, Chipset, CPU, GPU)
অ্যান্ড্রয়েড ১৪ এবং ফানটাচ ওএস ১৪ এর সমন্বয়ে এর প্ল্যাটফর্ম বেশ আধুনিক। ডাইমেনসিটি ৭৩০০ চিপসেট, অক্টা-কোর সিপিইউ (৪x২.৫ গিগাহার্টজ কর্টেক্স-এ৭৮ এবং ৪x২.০ গিগাহার্টজ কর্টেক্স-এ৫৫) এবং মালি-জি৬১৫ জিপিইউর সংমিশ্রণ ফোনটিকে গেমিং এবং মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য উপযোগী করে তুলেছে।
🧪 iQOO Z9s Tests (Benchmark & Performance)
বেঞ্চমার্ক টেস্টে মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৭৩০০ চিপসেট বেশ ভালো স্কোর করেছে। নিয়মিত ব্যবহারে ফোনটিতে কোনো ল্যাগ বা হিটিং ইস্যু খুব একটা দেখা যায়নি। পাবজি বা কল অফ ডিউটির মতো গেমগুলোতেও এটি মোটামুটি ভালো গ্রাফিক্সে বেশ স্মুথলি চালানো সম্ভব। ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেটের সাথে পারফরম্যান্সের মেলবন্ধন গেমিং অভিজ্ঞতাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
✅ iQOO Z9s এর সুবিধাগুলো
১. স্লিম এবং প্রিমিয়াম কার্ভড ডিজাইন। ২. ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেটের উজ্জ্বল অ্যামোলেড ডিসপ্লে। ৩. দীর্ঘস্থায়ী ৫,৫০০ এমএএইচ ব্যাটারি। ৪. শক্তিশালী মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৭৩০০ চিপসেট। ৫. ওআইএস সমৃদ্ধ ৫০ মেগাপিক্সেল মেইন ক্যামেরা। ৬. আইপি৬৪ ডাস্ট এবং ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স।
❌ iQOO Z9s এর অসুবিধাগুলো
১. কোনো এনএফসি (NFC) সুবিধা নেই। ২. মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট অনুপস্থিত। ৩. আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরার অভাব। ৪. ৪৪ ওয়াট চার্জিং স্পিড আরও ভালো হতে পারত। ৫. সফটওয়্যারে কিছু অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ থাকতে পারে। ৬. হেডফোন জ্যাকের অনুপস্থিতি।