স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের কোনো স্তরেই আর কাউকে গুমের শিকার হতে হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপ্রধানের এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষার নতুন বার্তা স্পষ্ট হলো।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, আর কোনো মাকে সন্তানের পথ চেয়ে চোখের পানি ফেলতে হবে না এবং কোনো স্ত্রীকে স্বামীর অপেক্ষায় প্রহর গুনতে হবে না। দিবসটিকে তিনি বুকফাটা হাহাকার ও গভীর বেদনার দিন হিসেবে বর্ণনা করেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, এই জঘন্য অপরাধ কেবল একজন ব্যক্তিকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে না, বরং তাদের স্বপ্ন, শান্তি ও অর্থনৈতিক অস্তিত্বকেও ধূলিসাৎ করে দেয়।
বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের কঠোর সমালোচনা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সে সময় রাষ্ট্রীয় আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যক্ষ মদদে গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ গড়ে তোলা হয়েছিল। বিএনপির প্রথিতযশা নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম এবং সাজেদুল ইসলাম সুমনের মতো অগণিত মানুষের গুমের ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বিরোধী মত দমনে এসব জঘন্য অপরাধের আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। এমনকি ব্যারিস্টার আরমান ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীর মতো ব্যক্তিদের বছরের পর বছর আলো-বাতাসহীন পরিবেশে আটকে রাখার মতো ভয়াবহ নির্যাতনের চিত্রও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।
রাষ্ট্রপতি জানান, গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে ১,৫৬৯টি ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, প্রকৃত অপরাধীদের পরিচয় যা-ই হোক না কেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এছাড়া গুমের শিকার পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, সামাজিক নিরাপত্তা ও তাদের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব রাষ্ট্র গ্রহণ করবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই নতুন বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না। সংবিধান ও আইনের শাসনের ওপর ভিত্তি করে এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহারের কোনো স্থান থাকবে না।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করার বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে গুম ও গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী চলমান রয়েছে। তিনি ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ চিরতরে বন্ধ করার প্রত্যয় জানিয়ে বলেন, একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত সাফল্য কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নয়, বরং নাগরিকদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের মধ্যেই নিহিত।
