গুমের বিচার ও প্রতিরোধে নতুন আইনি কাঠামো প্রণয়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার ভূলুণ্ঠিত করার লক্ষ্যে গুম ও অপহরণের মতো অমানবিক ও ভয়াবহ পথ বেছে নিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী মত দমন করতে সেই ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল, যা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ হিসেবে পরিচিতি পায়। মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর ধরে এসব স্থানে গুম হওয়া ব্যক্তিদের বন্দি রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হতো।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সকে বিশ্বের নিকৃষ্টতম ও ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মানবাধিকারের চরমতম লঙ্ঘন হিসেবে পরিচিত এই অপরাধটি মূলত স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলেই বেশি পরিলক্ষিত হয়। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে যে নির্মম পথ অবলম্বন করেছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল।
বিভিন্ন দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোতে ফ্যাসিস্ট সরকারের মদদে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কমপক্ষে ৭০০ মানুষকে গুম করেছে। এই ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করেছে এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর। এছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ চিরতরে বন্ধ করতে সরকার ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছে।
তারেক রহমান বলেন, গুম হওয়া কেবল একটি সংখ্যা বা ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের করুণ মৃত্যু। ইলিয়াস আলী কিংবা চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষ আজও নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের স্বজনরা আজও এক অনিশ্চিত প্রহর গুনছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী চক্রের পতনের পর কিছু মানুষ ফিরে এলেও অনেকের খোঁজ এখনো অজানা রয়ে গেছে।
আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে বলে স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, গুমের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। এবারের আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’ বা ‘ভুক্তভোগীরাই অগ্রাধিকার, পদক্ষেপ এখনই’-এর আলোকেই সরকার একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রস্তাবিত আইনগুলো কার্যকর হলে ভবিষ্যতে আর কেউ গুমের মতো মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধ করার দুঃসাহস দেখাবে না।
