জুলাই পরবর্তী বিভাজনের দায় সরকারের, অভিযোগ নাহিদ ইসলামের

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই স্মৃতি হলে রোববার বিকেলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। ‘পাহাড়ে জুলাই: সমমর্যাদা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি’ শীর্ষক এই সভায় তিনি অভিযোগ করেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে যে গভীর বিভাজন তৈরি হয়েছে, তার দায়ভার বর্তমান সরকারকেই বহন করতে হবে। ক্ষমতার লিপ্সায় সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই বিভাজন সৃষ্টি করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার রাষ্ট্র সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জনগণের দেওয়া বিভিন্ন অঙ্গীকার পূরণের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন তা বাস্তবায়নে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। জাতীয়তাবাদের নামে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিএনপিও ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে সরিয়ে দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বহীন করে রাখা হয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা।
সভায় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানে বাঙালি জাতীয়তাবাদকে প্রাধান্য দেওয়ায় সমমর্যাদার প্রশ্নে দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার অভাবসহ বিভিন্ন উন্নয়ন বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে সমমর্যাদার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে এস এম সুজা উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তারা আরও বলেন, পাহাড় থেকে সমতল পর্যন্ত সব মানুষের অধিকার রক্ষায় এনসিপি কাজ করে যাবে। জাতীয় ঐক্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হলে দেশের সব সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জন করা এখন সময়ের দাবি। পার্বত্য অঞ্চলের জনগণকে নিজেদের অধিকার আদায়ে আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সব সম্প্রদায়ের অংশীদারত্ব নিশ্চিত না করা পর্যন্ত প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
