সরকারি সেবায় দুর্নীতি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: হুঁশিয়ারি হুইপ আখতারুজ্জামানের

দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম কিংবা জনগণকে হয়রানির সুযোগ নেই। সরকারি কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তার মাধ্যমে তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন। হুইপ বলেন, সরকারি সেবা জনগণের সাংবিধানিক অধিকার এবং এই অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিটি দপ্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। সরকারি ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে সব ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার ও দায়িত্ব অবহেলার বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ফেসবুক বার্তায় তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, উপজেলা প্রশাসন, ভূমি অফিস, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও শিক্ষা অফিসসহ প্রতিটি সরকারি দপ্তরে সেবা প্রদানের নামে আর্থিক লেনদেন বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ বরদাস্ত করা হবে না। যেকোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এদিকে হুইপের এই বার্তাকে স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার অভিযোগ, অতীতে উপজেলার কিছু দপ্তরে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় অনিয়মের প্রবণতা পুরোপুরি কমেনি। তারা মনে করেন, হুইপের এই সাহসী অবস্থানের ফলে কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কিছুটা হলেও ভীতি ও সচেতনতা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা হুইপের এই দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, প্রকৃত অর্থে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। তবে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।