AdvertisementAdvertisement

বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানালেন

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা এবং ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন দ্রুত আহ্বান করতে হবে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, পরিষদের প্রথম বৈঠক আহ্বানের সাংবিধানিক সময়সীমা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।

রোববার সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সংসদ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত হয়েছে এবং এটি সাধারণ সাংবিধানিক সংসদীয় রূপান্তরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, “২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর জারি করা একটি প্রেসিডেন্টিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে এই সংসদ গঠন করা হয়েছে।” ওই আদেশে ১৫টি নির্দেশনা রয়েছে, যার অধিকাংশই জুলাই জাতীয় সনদ এবং সংবিধান সংস্কার বিষয়ক গণভোটের সঙ্গে সম্পর্কিত।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

আদেশের তৃতীয় থেকে পঞ্চদশ নির্দেশনা পর্যন্ত সরকারি গেজেট এবং গণভোট প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টি নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্দেশনা ১০ অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনের মতো একই পদ্ধতিতে এবং নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হবে।

তিনি বলেন, “আজ ৩০তম পঞ্জিকা দিবস, কিন্তু এখনও পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি।” এই বিলম্বে বিরোধী দল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭২ উল্লেখ করে তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংসদের অধিবেশন আহ্বান, মুলতবি বা ভাঙার ক্ষমতা রাখেন, সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী প্রথম বৈঠকের সময় ও স্থান নির্ধারণ করেন। তবে আদেশে স্পষ্ট বলা আছে যে সংবিধান সংস্কার পরিষদও একই পদ্ধতিতে আহ্বান করতে হবে।

বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার বিষয়ক গণভোট ইতোমধ্যে সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার সংস্কার প্রস্তাবগুলোর পক্ষে মত দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের একই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা উচিত ছিল।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দুঃখজনকভাবে এখনো তা করা হয়নি, অথচ আজই সময়সীমা শেষ হচ্ছে।” তিনি উল্লেখ করেন, আদেশ অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য—এই দুই ভূমিকায় দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি আরও জানান, পরিষদের প্রথম অধেশন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। তিনি বিরোধী দলের ৭৭ জন সদস্য ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট নথিতে স্বাক্ষর করেছেন।

ডা. শফিকুর রহমান জনগণের গণভোটের মাধ্যমে দেওয়া ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বানের আহ্বান জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%