গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, নাগরিক অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে রাঙ্গামাটিতে গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল ২টা ৫০ মিনিট থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত গণঅধিকার পরিষদ রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা শাখার সভাপতি রুনেল চাকমা।
বিকেলে রাঙ্গামাটি শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক ও বিজন সরণি প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভার কার্যক্রম শুরু হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ চাকমা, সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান রুমান, রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক এবং জেলা শাখার সভাপতি রুনেল চাকমাসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সংগঠনটির রাজনৈতিক পথচলা ও ত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরে তাঁরা গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
গণঅধিকার পরিষদের রাঙ্গামাটি জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ চাকমা বলেন, ভিপি নুরের নেতৃত্বে কোটা সংস্কার আন্দোলন না হলে এনসিপির অনেক নেতার পক্ষে ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে আসা কঠিন হতো। তাঁর মতে, ভিপি নুরের নেতৃত্ব ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অনেক নেতা উঠে এসেছেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য চন্দ্রা চাকমা বলেন, আপনাদের দল আমাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে কাজ করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আমাদের সঙ্গে ছিলেন বলে উল্লেখ করে তিনি ভিপি নুরের রাজনৈতিক ভূমিকা ও নেতৃত্বের কথা তুলে ধরেন।
জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান রুমান বলেন, ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে গণঅধিকার পরিষদের যাত্রা শুরু হয়। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত ভিপি নুর বিভিন্ন হামলার শিকার হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে ভিপি নুরের সঙ্গে থাকা অনেকেই পরবর্তীতে গণঅধিকার পরিষদে যুক্ত না থাকলেও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল করতে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের ভিপি নুরের রাজনৈতিক অনুসারী বললেও ভুল হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে রুনেল চাকমা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় তিনি গণঅধিকার পরিষদের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, নাগরিক অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ প্রতিষ্ঠায় দলীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি জনসাধারণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম বেগবান করতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিদ্যমান ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। আলোচনা সভা শেষে কেক কাটার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।