লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের উত্তর আমঝোল সীমান্ত এলাকায় রবিবার বিকেলে ভারতীয় বাঘের আকস্মিক আক্রমণে এক নারীসহ তিনজন আহত হওয়ার পর থেকেই চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় গ্রামবাসী। বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধার এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টর্চলাইট হাতে রাতভর সীমান্তবর্তী এলাকা পাহারা দিচ্ছেন আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকেলে হারিয়ে যাওয়া ছাগল খুঁজতে গিয়ে বাঘের আক্রমণের শিকার হন শরিফা বেগম নামের এক গৃহবধূ। রমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শরিফার অভিভাবক মমিনা বেগম জানান, শরিফা তার ছাগল আনতে গিয়ে বাদামবাড়িতে ধানখেতের ভেতর একটি বাঘকে ছাগল মেরে ফেলে রাখতে দেখেন। এ সময় তাকে উদ্ধার করতে এবং আশপাশে থাকা তার ভাসুরসহ আরও দুজন এগিয়ে গেলে বাঘটি তাদের ওপরও চড়াও হয় এবং তিনজনকে গুরুতর আহত করে। আহতদের মধ্যে দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অপরজন হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মামুন রহমান জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় দুজনকে দ্রুত রমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ১৫ ব্যাটালিয়নের একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বাঘটিকে পাশের জঙ্গলে সরিয়ে দেয়। বাঘের সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করতে এলাকায় হ্যান্ড মাইকিংয়ের পাশাপাশি ড্রোন দিয়েও নিবিড় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি। এছাড়া জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে খবর পেয়ে বন বিভাগের সদস্যরাও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে বন্যপ্রাণীটি উদ্ধারের কার্যক্রম শুরু করেন।
১৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, ড্রোন ফুটেজ থেকে প্রাপ্ত সব তথ্য সংশ্লিষ্ট বন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন যথাযথভাবে মেনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকাবাসীর আতঙ্ক দূর করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বন বিভাগ সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাঘটির সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করে নিরাপদে উদ্ধার না করা পর্যন্ত পুরো সীমান্তজুড়ে বিজিবির কঠোর সতর্ক অবস্থান বজায় রয়েছে।
এই আকস্মিক বন্যপ্রাণী আতঙ্কে সীমান্ত গ্রামের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে গেছে। বকুল মিয়া নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, বাঘের ভয়ে এলাকার কৃষকরা মাঠে কাজ করতে এবং জেলেরা ছোট খাল বা নদীতে নামতে চরম দ্বিধা ও ভয়ের মধ্যে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়ে বাঘটিকে নিরাপদে বন্দি বা উদ্ধার করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।