দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বালু নদের ওপর কায়েতপাড়া-নগরপাড়া এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে লাখো মানুষকে। ২৭ মার্চ সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বালু নদের সেতুর নির্মাণকাজের সর্বশেষ পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত তা চালুর আশ্বাস দেন। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে থমকে থাকা এই সেতুটিকে ঘিরে রূপগঞ্জবাসীসহ আশপাশের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বারবার হোঁচট খাচ্ছে।
কায়েতপাড়া-ত্রিমোহনী সড়কের বালু নদের ওপর এই সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরবর্তীতে মেসার্স ইস্টার্ন ট্রেডার্স লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতু নির্মাণের দায়িত্ব পায় এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তত্ত্বাবধানে এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘসূত্রিতা ও নানা জটিলতায় সেই কাজ ফাইলবন্দী হয়ে পড়ে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক জাহিদ হোসেন জানান, ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে মাত্র ৫০ লাখ টাকা উত্তোলনের পর আর কোনো বরাদ্দ মেলেনি। এর মধ্যে নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় কাজের গতিতে মারাত্মক স্থবিরতা দেখা দেয়।
দীর্ঘ বিরতির পর ২০২১ সালে অসমাপ্ত এই সেতুটির নির্মাণকাজে নতুন গতি আনতে দ্বিতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রায় ১৩ কোটি টাকা নতুন বরাদ্দে কাজটি পায় মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং মেসার্স সরদার এন্টারপ্রাইজ (জেভি), এবং ২০২১ সালের মে মাসে কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তা ফের বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে সেতুর দুটি পিয়ার, পিয়ারের কলাম, ক্যাপ, এক পাশের উইংওয়াল ও এবার্টমেন্ট দেয়াল দাঁড়িয়ে থাকলেও সংযোগ সড়কের অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। সড়কের ইট উঠে গেছে এবং অরক্ষিত অবস্থায় রডে মরিচা ধরে তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। একটিমাত্র সেতুর অভাবে রূপগঞ্জ ও আশপাশের লাখো মানুষকে ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার ঘুরে রাজধানীতে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
১৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু জানান, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতিতে কাজ শুরু হলেও বিভিন্ন মহলের ষড়যন্ত্র ও উদাসীনতায় তা থমকে যায়। তিনি অবিলম্বে এই সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করার জোর দাবি জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সেতুটি চালু হলে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তীব্র যানজট নিরসন হবে এবং রাজধানীর সঙ্গে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানান, ঢাকার পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় বালু নদের এই সেতুটি অত্যন্ত কৌশলগত ও জনগুরুত্বপূর্ণ। ঢাকার পূর্ব মাদারটেক ও সবুজবাগ হয়ে এই সেতু পার হয়ে সহজে যাতায়াত করা সম্ভব হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলা সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম জানিয়েছেন, কায়েতপাড়া-নগরপাড়া এলাকার এই সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি, এবং সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে খুব দ্রুতই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এদিকে, জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অসম্পূর্ণ সেতুটির নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করে তা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা।