দেশের প্রায় এক হাজার ৫০টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) প্রথম ধাপে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে শিশুদের বয়স ছয় বছর হওয়ার পর থেকেই জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যভান্ডার বা ডেটাবেজ তৈরির একটি দূরদর্শী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সংস্থাটি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সময় শিশুদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এই ডিজিটাল ডেটাবেজ প্রস্তুত করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।
প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে বিস্তারিত তুলে ধরে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, প্রথম ধাপে দেশের প্রায় এক হাজার ৫০টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে সার্বিক প্রস্তুতির সুবাদে এই ইউনিয়ন বা ইউপির সংখ্যা আরও কিছু বাড়তে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
শিশুদের এনআইডি নিবন্ধনের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, নাগরিক নিবন্ধনের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দীর্ঘস্থায়ী করতে ছয় বছর বয়স থেকেই তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সময় শিক্ষার্থীরা যে তথ্যগুলো প্রদান করে থাকে, তা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেই এই বিশাল ডেটাবেজ তৈরির কথা ভাবছে কমিশন।
আসন্ন নির্বাচনগুলোতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহারের কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের কাছে থাকা ইভিএমগুলো স্থায়ীভাবে নিষ্পত্তির জন্য চূড়ান্ত স্টক যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। এসব মূল্যবান প্রযুক্তিগত যন্ত্র কোন পদ্ধতিতে এবং কীভাবে পুরোপুরি নিষ্পত্তি করা হবে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ হাতে পাওয়ার পরই গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।