সিলেটে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা শেষে চালকের আসনে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিন শেষে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩র৫ রান, যার ফলে তাদের সামগ্রিক লিড দাঁড়িয়েছে ৩১৫ রানে। দিনের আলো স্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই সমাপ্তি টানা হয় খেলার। দিনের বড় অংশজুড়ে চমৎকার ব্যাটিং প্রদর্শনী উপহার দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এই মজবুত অবস্থানে নিয়ে গেছেন ব্যাটাররা।
দিনের শুরুতে স্কোরবোর্ডে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭ রান নিয়ে খেলতে নেমে সাবলীল সূচনা করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উদ্বোধনী জুটিতে ব্র্যান্ডন কিং এবং জশুয়া ডি সিলভা যোগ করেন ৮৫ রান। জশুয়া ডি সিলভা ৩৬ রান করে তাইজুল ইসলামের শিকারে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়লে ভাঙে এই জুটি। এরপর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে মাত্র ৬২ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ব্র্যান্ডন কিং। দলীয় রান বাড়ানোর পথে ব্রেন্ডন কিং ৬১ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচে পরিণত হন।
এরপর ক্যাভেম হজ এবং টেস্টে অভিষেক হওয়া কেভিন উইকহামের অবিস্মরণীয় জুটি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি অতিথিদের মুঠোয় এনে দেয়। এই দুই ব্যাটার তৃতীয় উইকেটে গড়েন ১৫৮ রানের দুর্দান্ত এক জুটি। লাঞ্চ বিরতির পর স্পিনাররা কিছুটা টার্ন পেলেও এই জুটির সাবলীল ব্যাটিং থামানো যায়নি। কেভিন উইকহাম তার চমৎকার অভিষিক্ত ফর্ম অব্যাহত রেখে তুলে নেন ম্যাচের দ্বিতীয় ফিফটি। চা বিরতির পর তাইজুল ইসলামের বলে কেভিন উইকহাম ক্যাচ দিয়ে ৭৩ রান করে সাজঘরে ফিরলে এই জুটি ভাঙলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানের গতি কমেনি।
দিনের আলো কমে আসার আগ পর্যন্ত উইকেটে থেকে দারুণ সব শট খেলে যান ক্যাভেম হজ। ইনিংসের এক পর্যায়ে টেস্ট ক্রিকেটে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন এই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ১৪০ রানের অপরাজিত এক নান্দনিক ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন ক্যাভেম হজ। আমীর জাঙ্গুর সঙ্গে তার অবিচ্ছিন্ন জুটি থেকে আসে আরও ৬১ রান। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তাইজুল ইসলাম ১১৮ রান খরচ করে শিকার করেন ২টি উইকেট এবং মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ১টি উইকেট।